প্রীতেশ বসু, কলকাতা: বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার টাকা আটকে রেখেছে দেড় বছর। এবার নয়া ফিকির তুলল মোদি সরকার। সূত্রের খবর, জল জীবন মিশনে (পশ্চিমবঙ্গে জলস্বপ্ন) এবার থেকে স্কিম ভিত্তিক টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সেক্ষেত্রে প্রতিটি স্কিমের জন্য পৃথক আইডি নম্বর তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি একটি স্কিমের ‘ফিনান্সিয়াল রিকনসিলিয়েশন’ বা আর্থিক সামঞ্জস্যও থাকা চাই। অর্থাৎ, একটি স্কিমে রাজ্যের তুলনায় কেন্দ্রের বরাদ্দ অর্থ বেশি খরচ হয়েছে কি না, টাকা দেওয়ার আগে তা মিলিয়ে নেবে জলশক্তি মন্ত্রক। তার ভিত্তিতেই মিলবে টাকা। প্রসঙ্গত, এই প্রকল্পের খরচ কেন্দ্র এবং রাজ্য অর্ধেক অর্ধেক দেয়। তবে রক্ষণাবেক্ষণের সমস্ত খরচই রাজ্যের। এই নতুন নিয়ম সম্পর্কে রাজ্যকে কয়েকদিন আগেই অবহিত করা হয়। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে এক বৈঠকে এই নিয়ম বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলার নিদান দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের আরও একটি বার্তা হল, এই শর্ত ‘যত দ্রুত পূরণ’ হবে তত তাড়াতাড়ি টাকা পাবে রাজ্য। কেন্দ্রের এই বার্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে নবান্ন।
বুধবার জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের (পিএইচই) সমস্ত এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে একটি বৈঠকে আইডি নম্বর তৈরির কাজে দ্রুত নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় পোর্টাল ব্যবহার করে ৫৫টি আইডি তৈরি হয়ে গিয়েছে। ফলে কেন্দ্র আগামী মাসেই জল জীবন মিশনের টাকা দেবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। রাজ্যে এই প্রকল্পে প্রায় ১০ হাজার স্কিম রয়েছে। কিছু স্কিমকে একসঙ্গে আনা হবে। ফলে রাজ্যে মোট স্কিম সাড়ে ৬ হাজারে দাঁড়াবে।
বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার কাজটিকে আগাগোড়াই গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই কেন্দ্র টাকা না-দেওয়ায় রাজ্যের কোষাগারের অর্থেই এই প্রকল্পের কাজ চালু রয়েছে। কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত ১৩,০২৭ কোটি টাকা দিয়েছে। রাজ্য খরচ করেছে ১৫,২৫৯ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লিতে মঙ্গলবারের বৈঠক থেকে বকেয়া অর্থ নিয়ে কোনও বার্তা মেলে কি না, সেদিকে সকলের নজর ছিল। টাকা ছাড়া নিয়ে ‘ইতিবাচক’ ইঙ্গিত মিলেছে সেখানেই। তবে প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্রীয় বাজেটে এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হলেও এখনও কেন সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হল না? ফলে এই নয়া শর্ত পূরণ করলে দ্রুত টাকা দেওয়ার কেন্দ্রীয় আশ্বাস কতটা নির্ভরযোগ্য? রাজ্যের এক অভিজ্ঞ আমলার মন্তব্য, ‘না আঁচালে বিশ্বাস নেই।’