Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

কমিশন বাড়বে না, ডাকঘর এজেন্টদের দাবি নস্যাৎ করে জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার

সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের হার কমছে দেশজুড়ে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত কেন্দ্রীয় সরকার থেকে শুরু করে অর্থনীতিবিদরা। সঞ্চয় প্রবণতা বাড়াতে পিপিএফ, রেকারিং ডিপোজিট স্কিম, মান্থলি ইনকাম স্কিম বা এমআইএস, এনএসসি, কিষাণ বিকাশপত্রের মতো স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদ কমানো হয়নি প্রায় দু’বছর।

কমিশন বাড়বে না, ডাকঘর এজেন্টদের দাবি নস্যাৎ করে জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার
  • ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের হার কমছে দেশজুড়ে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত কেন্দ্রীয় সরকার থেকে শুরু করে অর্থনীতিবিদরা। সঞ্চয় প্রবণতা বাড়াতে পিপিএফ, রেকারিং ডিপোজিট স্কিম, মান্থলি ইনকাম স্কিম বা এমআইএস, এনএসসি, কিষাণ বিকাশপত্রের মতো স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদ কমানো হয়নি প্রায় দু’বছর। স্মল সেভিংস এজেন্টদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, তাঁদের কমিশন বাড়ানো হোক। কারণ, বেশ কিছু প্রকল্পে কমানো হয়েছে কমিশন। এমনকী, একাধিক স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্প রয়েছে, যেগুলিতে আগে কমিশন ব্যবস্থা চালু থাকলেও বেশ কয়েক বছর হল, তা তুলে দেওয়া হয়েছে। এজেন্টদের বক্তব্য, তাঁরা কমিশনের তাগিদে সাধারণ মানুষকে সঞ্চয়মুখী করায় উৎসাহ দিতেন। এখন সেই উৎসাহ তলানিতে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক জানিয়ে দিল, তারা একদিকে যেমন কমিশন বাড়াতে রাজি নয়, তেমনই যে প্রকল্পগুলিতে কমিশন নেই, সেগুলিতে আর তা ফেরানোও হবে না। বর্তমানে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য যে সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম চালু আছে, সেখানে কোনও কমিশন প্রথা চালু নেই। প্রস্তাব ছিল, এই প্রকল্পটিতে কমিশন প্রথা চালু হোক। তাতে এজেন্টরা উৎসাহিত হবেন এবং প্রবীণরাও বাড়িতে বসে প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারবেন। অর্থমন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে, এমন কোনও সুবিধা চালু করা হবে না।

Advertisement

স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলির জন্য বর্তমানে দেশে দু’টি এজেন্সি ব্যবস্থা চালু আছে। মহিলা প্রধান ক্ষেত্রীয় বচত যোজনা এবং স্ট্যান্ডার্ডাইজড এজেন্সি সিস্টেম। প্রথমটি শুধু মহিলাদের জন্য। পরেরটি সবার জন্য। এগুলির আওতায় বর্তমানে প্রায় ২ লক্ষ ৬৬ হাজার এজেন্ট রয়েছেন। ২০১১ সাল পর্যন্ত এজেন্টরা প্রকল্প ভেদে ন্যূনতম এক শতাংশ এবং সর্বোচ্চ চার শতাংশ কমিশন পেতেন। এরপর সেই কমিশন কমিয়ে সর্বনিম্ন ০.৫ শতাংশ করা হয়। শুধুমাত্র রেকারিং ডিপোজিটে মহিলা এজেন্টরা বর্তমানে চার শতাংশ কমিশন পান। বর্তমানে কমিশন প্রথা তুলে দেওয়া হয়েছে প্রবীণ নাগরিকদের স্কিম, সুকন্যা সমৃদ্ধি এবং পিপিএফে। 
কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, চলতি কমিশন ব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনও চিন্তাভাবনা তাদের নেই। কমিশনের হার সম্পর্কিত যে পর্যালোচনা করা হয়েছে, সেখানেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে অর্থমন্ত্রক। তাদের বক্তব্য, সেখানে ডিজিটাল লেনদেনের উপর জোর দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। গ্রাহকরা নিজেরাই যাতে অনলাইনে সঞ্চয় প্রকল্প কিনতে উৎসাহিত হন, সেটাই কেন্দ্রের লক্ষ্য। এই কারণে কমিশন ব্যবস্থার পরিবর্তনে আপাতত সায় নেই তাদের। ডাকঘর এজেন্টদের বক্তব্য, যেখানে লক্ষাধিক মানুষ এই পেশায় যুক্ত, সেখানে এই ‘বঞ্চনা’ আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। বরং সরকারের উচিত কমিশন বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় প্রবণতাকে উৎসাহিত করা।

সম্পর্কিত সংবাদ