নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ২০১৭ সালে গঠন করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় জিএসটি মনিটারিং কমিটি। লক্ষ্য ছিল, নতুন কর কাঠামো অর্থনীতিকে কতটা প্রভাবিত করছে তা দেখা। পাশাপাশি শিল্প-বাণিজ্য মহল থেকে যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলি অনুসরণ করা এবং জিএসটি কাউন্সিলকে সমস্যা সমাধানের সুপারিশ করা। কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিবের নেতৃত্বে এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। আট বছর পর আবার নতুন একটি নজরদারি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রক, কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রক, উপভোক্তা মন্ত্রক, বাণিজ্য মন্ত্রক থাকবে এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে। লক্ষ্য সেই একই। নয়া জিএসটি কাঠামো সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, সেটি নিশ্চিত করা। সোমবার থেকে চালু হওয়া দ্বিতীয় জিএসটি কাঠামোর সবথেকে বড় শঙ্কা হল, নতুন জিএসটির সুবিধা সাধারণ মানুষ পাবে তো? অর্থাৎ প্যাকেজিং এর কারণে পুরনো জিএসটি হার কারা এখনও আদায় করে চলেছে, সেটার উপর কড়া নজরদারি করবে এই কমিটি। এই সময়সীমায় কারা এমআরপি বাড়িয়ে দিয়ে জিএসটি কমানোর সুবিধা জনগণকে না দিয়ে একইরকমভাবে সেই পুরনো দামই আদায় করছে, সেটি চিহ্নিত করা। কমিটির পাশাপাশি একটি অভিযোগ গ্রহণ কেন্দ্র ও টোল ফ্রি নম্বরও চালু করা হবে। যেখানে সাধারণ মানুষ তথ্যপ্রমাণ ও নথি সহযোগে অভিযোগ জমা করতে পারবে। এই কমিটি ছাড়াও রাজ্যগুলিকে বলা হবে যাতে নজরদারির জন্য বিশেষ উপভোক্তা সহায়ক কোনও কমিটি কিংবা জন অভিযোগ কেন্দ্র চালু করা হয়। জিএসটি যেহেতু রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার উভয়ের স্বার্থবাহী, তাই রাজ্যকেও এই নজরদারি প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে চাইছে কেন্দ্র। সেইমতোই জিএসটি কাউন্সিলের পরবর্তী বৈঠকে প্রধান এজেন্ডা হবে, নতুন জিএসটি কাঠামোর প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব কোথায় কতটা পড়ছে এবং সাফল্য ও ব্যর্থতা কী তা নিয়ে আলোচনা করা। সোমবার থেকে চালু হয়েছে নতুন জিএসটি কাকাঠামো। একে সাশ্রয় উৎসব পর্ব শুরু হল বলে আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জনগণকে চিঠিও লিখেছেন। কিন্তু এবার সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হল, জিএসটি কমানোর ১০০ শতাংশ সুবিধা সাধারণ মানুষ পাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা।



