প্রীতেশ বসু, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে একাধিক জাতীয় সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে রাজ্য সরকারের পূর্তদপ্তরের জাতীয় সড়ক শাখা। কিন্তু দু’টি জাতীয় সড়কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রাজ্যের হাত থেকে কেড়ে নিল কেন্দ্র। তারা এই দায়িত্ব তুলে দিয়েছে কেন্দ্রের অধীনস্থ সংস্থা ন্যাশনাল হাইওয়ে অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডকে (এনএইচআইডিসিএল)। জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং সংযোগকারী ১১০ নং জাতীয় সড়ক এবং পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের সংযোগকারী ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের অধীন ওই সংস্থার হাতে।
এছাড়া, সেবকে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর ডিপিআর রাজ্যের তরফে জমা দেওয়া হলেও সেই কাজের দায়িত্ব জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে দিয়েছে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক। এখানেই শেষ নয়, আগামী দিনে বাংলার হাত থেকে উত্তর-পূর্ব ভারত সংযোগকারী জাতীয় সড়ক ১৭’র রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও কেড়ে নেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই দায়িত্ব কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এভাবে রাজ্যকে জোড়া ধাক্কা দেওয়া হল। প্রথমত, এই কাজ বাবদ রাজ্যের ভাঁড়ারে যে রাজস্ব আসে, তা কমে যাবে। দ্বিতীয়ত, এই সমস্ত প্রকল্পে এলাকার মানুষের কাজ পাওয়া নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হল। ফলে ১০০ দিনের কাজ, আবাস প্রকল্পে বঞ্চনার মতো এই সিদ্ধান্তও বাংলার মানুষকে ভাতে মারার আরেক চক্রান্ত কি না, প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক মহলে।
এক্ষেত্রে কারও নাম না করে রাজ্যের এক বিজেপি সাংসদকে সরাসরি দায়ী করেছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ। তাঁর কথায়, ‘এঁরা রাজ্যের লাভ-ক্ষতির পরোয়া করে না। শুধু রাজনৈতিক ফায়দার কথা ভেবে কাজ করে। তাই রাজ্য ভালো কাজ করলেও মিথ্যা বলা হচ্ছে। কেন্দ্রকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যকে দায়িত্ব থেকে সরানো হচ্ছে।’ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। প্রসঙ্গত, শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং সংযোগকারী ১১০ নং জাতীয় সড়কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থেকে রাজ্যকে সরানোর আর্জি জানিয়ে কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা। তাই রাজ্যের মন্ত্রীর অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানতে তাঁকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। প্রশাসন সূত্রে খবর, বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা অর্থমূল্যের কাজ করে রাজ্য পূর্তদপ্তরের জাতীয় সড়ক শাখা। অন্তত ৩০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। কিন্তু এক এক করে বিভিন্ন রাস্তার দায়িত্ব রাজ্যের হাত থেকে চলে গেলে এই রাজস্বে যে টান পড়বে, বলাই বাহুল্য।