নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রেশনে আগামী তিনমাসের বরাদ্দ খাদ্যশস্য এখনই তুলে নিতে বলল কেন্দ্র। রাজ্যগুলিকে এই মর্মে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে তারা। বন্যার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যই এই ব্যবস্থা। এক চিঠি মারফত জানিয়েছে খাদ্যমন্ত্রক। জুন-আগস্টের বরাদ্দ এমাসেই তুলতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, কেন্দ্র বর্ষার দোহাই দিলেও এই সিদ্ধান্তের পিছনে অন্য কারণও থাকতে পারে। দেশে এবার সরকারি উদ্যোগে প্রচুর পরিমাণে গম কেনা হয়েছে। গম ক্রয়ের মোট পরিমাণ তিন কোটি টন ছাড়াতে চলেছে, যা গতবছরের চেয়ে অনেকটাই বেশি। গম মজুত রাখতে যাতে কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা এফসিআইয়ের কোনও সমস্যা না-হয়, তাই খাদ্যশস্য আগেভাগে রাজ্যগুলিতে পাঠিয়ে দিতে চাইছে কেন্দ্র।
কিন্তু আগাম পাঠিয়ে দেওয়া খাদ্যশস্য কোথায় মজুত রাখা হবে! চিন্তায় পড়েছে পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্য। খাদ্যদপ্তর এই ব্যাপারে এখনও কোনও নির্দেশিকা জারি করেনি। তবে রেশন ডিলারদের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, আগাম পাঠানো খাদ্যশস্য তাঁদের কাছেই মজুত রাখতে হবে। এতে আপত্তি জানিয়েছেন ডিলাররা। তাদের সংগঠন রাজ্যের খাদ্যসচিব পারভেজ আমেদ সিদ্দিকিকে চিঠিও দিয়েছে। অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু ওই চিঠিতে তাঁদের সমস্যাগুলির উল্লেখ করেছেন। রাজ্যের নিজস্ব প্রকল্পভুক্ত গ্রাহকদের খদ্যশস্য আগাম পাঠাতে চাওয়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে। রেশন দোকানে এত বেশি খাদ্যশস্য মজুত রাখার জায়গা নেই। এরপরও জোর করে সেসব পাঠিয়ে দিলে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।
বিশ্বম্ভরবাবু জানান, কেন্দ্রীয় মজুত ভাণ্ডারে বেশি গম থাকলে তা ন্যায্য দামে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হোক। রেশন ডিলাররা ওপেন সেল স্কিমে গম কিনে সাধারণ মানুষকে বাজার দরের চেয়ে কমেই বেচতে চান। কিন্তু একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণ খাদ্যশস্য পাঠিয়ে দিয়ে নিজেদের দায় এড়ালে চলবে না।