নয়াদিল্লি: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে আমেরিকা। এই ঘটনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতার বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একহাত নিল কংগ্রেস। হাত শিবিরের দাবি, এটা দেশের বিদেশনীতির ব্যর্থতা। মোদিকে ‘স্বঘোষিত বিশ্বগুরু’ বলেও কটাক্ষ করেছে তারা।
বুধবার এক্স হ্যান্ডলে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ইজরায়েল সফর শেষ হওয়ার দু’দিনের মাথায় যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। এই সফরের জেরে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। শুধুমাত্র ইজরায়েলের নৃশংসতা নিয়েই নয়, হোয়াইট হাউসে প্রিয় বন্ধুর অসম্মানজনক ভাষার প্রয়োগ নিয়ে চুপ থেকেছেন মোদি। এটাই ওঁর কাপুরুষতার প্রমাণ।’ তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি প্রধানমন্ত্রীর অত্যধিক ব্যক্তিকেন্দ্রিক কূটনীতিকে বড়োসড়ো ধাক্কা দিয়েছে।’
অপারেশন সিন্দুরের পরে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসে মদতদাতা হিসাবে তুলে ধরতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিনিধি পাঠিয়েছিল নয়াদিল্লি। সেকথা স্মরণ করিয়ে জয়রাম জানান, পাকিস্তান একটি দেউলিয়া দেশ। বাইরের আর্থিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল। তবে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে গেল, পাকিস্তানকে একঘরে করার যে নীতি ভারত নিয়েছিল তা ব্যর্থ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মুম্বই জঙ্গি হামলার পর তৎকালীন মনমোহন সরকারের বিদেশনীতির সাফ্যল্যের কথা তুলে ধরেন তিনি। জয়রামের বক্তব্য, ‘২০২৫ সালের ১০ মে কেন আচমকা অপারেশন সিন্দুর বন্ধ করা হল তা এখনও স্পষ্ট করেননি মোদি সরকার। সংঘর্ষবিরতির কথা প্রথম জানান মার্কিন বিদেশসচিব। অন্তত একশোবার এর কৃতিত্ব নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।’ পোস্টে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরকে তোপ দাগেন কংগ্রেস নেতা। জয়রামের তোপ, ‘এখন চারিদিকে লোকজন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শংকর পাকিস্তানকে দালাল বলেছিলেন। তবে এখন স্বঘোষিত বিশ্বগুরুর সবকিছু ফাঁস হয়ে গিয়েছে। তাঁর ৫৬ ইঞ্চির ছাতি সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।’ নিজেকে বরাবর আমেরিকা, ইজরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলির বিশেষ বন্ধু হিসাবে দাবি করেছেন মোদি। বিষয়টি নিয়ে তাঁকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি প্রবীণ কংগ্রেস নেতা। তাঁর তোপ, ‘নিজেকে আমেরিকা, ইরান, ইজরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলির বিশেষ বন্ধু বলেন মোদি। ব্রিকস গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব এখন ভারতের হাতে। তাহলে সংঘর্ষবিরতি নিয়ে আলোচনায় তিনি কেন ছিলেন না?’