


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুলিস হেফাজতে খুন ও তথ্য-প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ। ২০০৪ সালে খড়্গপুরে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক যুবককে পাকড়াও করা হয়। পরে পুলিস হেফাজতে তার মৃত্যুও হয়। ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মৃতের মা। এই মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরের তৎকালীন এসডিপিও-সহ ন’জন পুলিসকর্মী। মৃতের মায়ের আর্জিতে হাইকোর্টের নির্দেশে পুলিসের হাত থেকে তদন্তভার সিবিআইয়ের কাছে যায়। ২১ বছর পর সেই মামলায় রায় দিল কলকাতার বিচারভবন। সিবিআইয়ের ব্যর্থতায় তথ্য-প্রমাণের অভাবে ধৃতদের বেকসুর খালাসের রায় শোনালেন বিচারক।
২০০৪ সালের ৬ জুলাইয়ের ঘটনা। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় একটি ডাকাতির মামলায় স্রেফ সন্দেহের বশে সৌমেন্দু মণ্ডল নামে এক যুবককে পাকড়াও করে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিস। গভীর রাতে তাকে পাকড়াও করা হয়। পুলিসের দাবি, থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় ধৃত যুবক গাড়ি থেকে ঝাঁপ দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় সৌমেন্দুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিস। সেখানেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবারকে খবর দেয় পুলিস। সৌমেন্দুর মা বিভা মণ্ডল পুলিসকর্তাসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তাঁদের মধ্যে চারজন পুলিসকর্তাসহ মোট ন’জন উর্দিধারী। অভিযুক্তের তালিকায় একজন চিকিৎসকও ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তের পর দ্রুত চার্জশিট দেয় পুলিস। মামলা শুরু হয় মেদিনীপুর জেলা আদালতে। কিন্তু, কেস পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিসের হাতে থাকলে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে আশঙ্কা করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বিভাদেবী। হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। সেই মামলা স্থানান্তরিত হয় কলকাতায়। বিচারভবনে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে বিচারক প্রশান্ত মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে বিচার প্রক্রিয়া চলতে থাকে। আদালত সূত্রের খবর, ৬৯ জন সাক্ষী জোগাড় করে সিবিআই। তাতে ছিলেন মৃতের মা, দাদা, আত্মীয়স্বজন এবং আরও অনেকে। বিচার চলাকালে ধৃতদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়। ২১ বছর বিচার প্রক্রিয়া চলার পর বৃহস্পতিবার রায় দেন বিচারক। বিচারক জানান, খুনের মামলায় তদন্তকারী সংস্থা উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ পেশ করতে পারেনি। তাই ধৃতদের বেকসুর খালাস করা হচ্ছে। প্রবীণ আইনজীবী গণেশ মাইতি বলেন, নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও আমার মক্কেলদের দীর্ঘ ২১ বছর কারাবাস করতে হয়েছে। শেষমেশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ না-থাকায় তাঁদের বেকসুর খালাস করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।