অটোয়া: হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও গাজায় ইজরায়েল বাহিনীর আক্রমণ থামানো সম্ভব হয়নি। না খেতে পেয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ। এই পরিস্থিতিতে প্যালেস্তাইনকে রাষ্ট্রের মর্যাদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিল কানাডা। বুধবার একথা জানিয়েছেন সেদেশের প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেন, ‘সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভার ৮০তম অধিবেশন বসতে চলেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানেই প্যালেস্তাইনকে রাষ্ট্রের মর্যাদা দেবে কানাডা।’ সম্প্রতি প্যালেস্তাইনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিন্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স ও ব্রিটেন। এবার একই পথে হাঁটল কানাডা। কার্নির এই সিদ্ধান্তকে মোটেই ভালো চোখে দেখছে না ইজরায়েল। তেল আভিভের দাবি, চাপে পড়ে এই কাজ করেছে কানাডা। বিবৃতি দিয়ে অটোয়ার ইজরায়েলি দূতাবাস জানিয়েছে, ‘প্যালেস্তাইনে দায়িত্ব নেওয়ার মতো কোনও সরকার নেই। কার্যকারী সংস্থা নেই। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের মর্যাদা দেওয়া মানে হামাসের বর্বরতাকে মেনে নেওয়া।’
বুধবার কার্নি জানান, গাজাবাসীর অবস্থা শোচনীয়। এই অবস্থায় দেরি না করে একসঙ্গে শান্তি ফেরাতে হবে। তাঁর কথায়, ‘প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্যালেস্তাইন প্রশাসন। ২০২৬ সালে সুষ্ঠুভাবে সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মামুদ আব্বাস। সেখানে হামাসের কোনও ভূমিকা থাকবে না। সেকথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ বর্তমানে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৪৭টি প্যালেস্তাইনকে রাষ্ট্রের মর্যাদা দেয়। শীঘ্রই সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডার মতো পশ্চিমী শক্তি। ইতিমধ্যে সমর্থন জানিয়েছে স্লোভেনিয়া, সুইডেন, স্পেন ও আয়ারল্যান্ড। প্রত্যেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য। মাল্টা ও বেলজিয়াম সমর্থনের আভাস দিয়ে রেখেছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে আমেরিকা ছাড়া সকলেই প্যালেস্তাইনের পক্ষে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এভাবে চলতে থাকলে চাপ বাড়বে ইজরায়েলের।