নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত বছর কালীপুজোর কিছুদিন আগে শব্দবাজির সর্বোচ্চ সীমা ৯০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ ডেসিবেল করা হয়েছিল। কিন্তু বাজি প্রস্তুতকারকদের হাতে বেশি সময় না থাকায় বাজারে মূলত ৯০ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দসীমার বাজিই বিক্রি হয়েছে। এ বছর তাঁরা আগাগোড়াই এগিয়েছে ১২৫ ডেসিবেল শব্দসীমা মাথায় রেখে। কাজেই সাধারণ মানুষ থেকে পরিবেশ কর্মীরা মনে করছেন, শব্দবাজির দাপট রোখার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কাছে এই বছরটা বড় চ্যালেঞ্জ। রবিবার, কালীপুজোর আগের দিন সন্ধ্যা নামতেই শহর ও শহরতলির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শব্দবাজির বিকট আওয়াজ ভেসে এসেছে। রবিবার বিকেল থেকেই পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ কন্ট্রোল রুম খুলেছে পরিবেশ ভবনে। সেখানে জায়ান্ট স্ক্রিনে আধিকারিকরা নজর রেখেছেন, কোথায় শব্দ দূষণ মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তত্পর রয়েছেন পরিবেশ কর্মীরাও।
পরিবেশ কর্মীদের সংগঠন সবুজ মঞ্চ নাগরিকদের জন্য হেল্পলাইন খুলেছে। সংগঠনের সম্পাদক নব দত্ত জানিয়েছেন, আজ, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৯১৬৩৫৩৯০৭৩ ও ৯২৩০৫৬৮৯০২ নম্বরে শব্দবাজি সংক্রান্ত অভিযোগ জানানো যাবে। সোমবার সন্ধ্যার পর কলকাতা সহ জেলাতেও প্রতিনিধি দল নজরদারি চালাবে। এদিকে, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কন্ট্রোল রুমে রবিবার সন্ধ্যাতেই কলকাতার বাঙুর অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে শব্দবাজির অভিযোগ এসেছে বলে খবর। রাত ৯টা পর্যন্ত সারা রাজ্য থেকে আটটি অভিযোগ এসেছে। এক আধিকারিক বলেন, ‘সোমবার বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে। পাশাপাশি পর্ষদের আধিকারিকরাও সরেজমিনে হাসপাতাল চত্বরগুলোতে নজরদারি চালাবেন। সঙ্গে পুলিশও থাকবে। অভিযোগ এলেই তাঁরা সংশ্লিষ্ট থানার খবর পাঠাবেন।’ যদিও সাধারণ মানুষ সহ পরিবেশ কর্মীদের অভিযোগ, ১২৫ ডেসিবেল পর্যন্ত ছাড়পত্র দেওয়ার ফলে নানা ধরনের বোম-পটকা বাজারে বিক্রি হয়েছে। তাই বয়স্ক মানুষ থেকে পশু-পাখিদের বিড়ম্বনা বাড়বে বলেই আশঙ্কা। নিয়ম রয়েছে, দীপাবলিতে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত শুধুমাত্র ‘সবুজ বাজি’ পোড়ানো যাবে। সেটিও নজরে রাখছেন পুলিশ ও পরিবেশ কর্মীরা। পর্ষদের কন্ট্রোল রুমে জায়ান্ট স্ক্রিন।