সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: বাংলা নববর্ষে হালখাতা পুজোয় পিছিয়ে নেই বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপ। শ্রীচৈতন্যদেবের স্মৃতিবিজড়িত এশহরের বিভিন্ন মন্দিরে হালখাতা পুজোর জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ভিনজেলা, এমনকী ভিনরাজ্য থেকেও ব্যবসায়ীরা আসেন। ফলে নববর্ষে এখানকার বিভিন্ন বৈষ্ণব মঠ ও মন্দিরে প্রচুর ভিড় হয়। ব্যবসায়ীরা অনেকেই লক্ষ্মী-গণেশের বিগ্রহ সঙ্গে নিয়ে আসেন। মঠ-মন্দিরে অভিষেকের পর সেই বিগ্রহ পুজোর জন্য বাড়িতে নিয়ে যান।
নববর্ষে নবদ্বীপের পোড়ামা, ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু, গৌরাঙ্গ জন্মস্থান, বুড়োশিব, যোগনাথ শিব মন্দিরে পুজো দিতে লম্বা লাইন পড়ে যায়। শহরের বেশিরভাগ ব্যবসায়ী পয়লা বৈশাখের ভোরে গঙ্গাস্নান সেরে নতুন খাতা নিয়ে পোড়ামাতলা ও গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দিরে হাজির হন। কেউ কেউ বছরের এই দিনে পরিবার নিয়ে মায়াপুরের ইসকন মন্দির সহ বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরতে চলে আসেন। বাংলা নববর্ষের সকালে দূরদূরান্ত থেকে বহু পুণ্যার্থী গঙ্গাস্নানে চৈতন্যভূমির বিভিন্ন ঘাটে ভিড় করেন।
নবদ্বীপের মাটিতে জন্মেছেন প্রেমাবতার গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। এই শহরে জন্মেছেন তন্ত্রসাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশও। শহরের প্রাণকেন্দ্র পোড়ামাতলায় বিরাজ করছেন নবদ্বীপের গ্রাম্যদেবী পোড়ামা। শাক্ত, শৈব ও বৈষ্ণবদের অসংখ্য মঠ-মন্দির আছে নবদ্বীপে।
গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু মন্দিরের অন্যতম সেবাইত প্রদীপকুমার গোস্বামী বলেন, মহাপ্রভু হলেন নবদ্বীপের ধামেশ্বর। তাঁর টানে সারাবছরই দেশ-বিদেশ থেকে ভক্তরা এশহরে আসেন। ব্যবসায়ীরা নববর্ষে পুজো দিয়ে তাঁর আশীর্বাদের ফুল সারাবছর দোকানে সযত্নে রেখে দেন। কেউ কেউ লক্ষ্মী-গণেশের বিগ্রহ সঙ্গে নিয়ে এসে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর সামনে পুজো করিয়ে নেন।
পোড়ামা মন্দিরের অন্যতম পুরোহিত বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বলেন, নবদ্বীপের বহু মানুষ যে কোনও পার্বণে পোড়ামার কাছে পুজো দেন। পার্শ্ববর্তী পূর্ব বর্ধমানের ব্যবসায়ীরাও অনেকেই বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে এখানে পুজো দিতে আসেন। তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই দিনে পোড়ামার পুজো দিলে সারাবছর ব্যবসা ভালো হবে। পোড়ামাতলার ফুলবিক্রেতা বাবন দে বলেন, বেলফুল, জুঁইফুল, পদ্ম, রজনীগন্ধা, গাঁদা ফুলের খুব চাহিদা রয়েছে। নববর্ষে অনেকেই গাঁদাফুলের মালা কিনে দোকান সাজিয়েছেন।
নবদ্বীপ পুরাতত্ত্ব পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শান্তিরঞ্জন দেব বলেন, ব্যবসায়ীরা গণেশকে বলেন বিঘ্ননাশক। যাতে ব্যবসায় বিঘ্ন না ঘটে, সুন্দরভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য হয়-সেজন্য গণেশের পুজো করেন তাঁরা। হালখাতার দিন নতুন খাতা পুজো করে সিদ্ধিদাতা গণেশকেই আহ্বান করা হয়। অনেকেই হালখাতার প্রথম পাতায় স্বস্তিক চিহ্ন এঁকে ভগবানের কাছে নতুন বছরে ভালো ব্যবসার প্রার্থনা করেন।