Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘পেট্রল দিয়ে জ্বালিয়ে দাও’, শিক্ষকদের বিক্ষোভের নেপথ্যে ইন্ধন? তদন্তে পুলিস

কসবার ডিআই অফিসে পুলিসের লাথি ও লাঠিচার্জ নিয়ে সরগরম রাজ্য। প্রশ্ন উঠছে অতিসক্রিয়তা নিয়েও।

‘পেট্রল দিয়ে জ্বালিয়ে দাও’, শিক্ষকদের বিক্ষোভের নেপথ্যে ইন্ধন? তদন্তে পুলিস
  • ১১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কসবার ডিআই অফিসে পুলিসের লাথি ও লাঠিচার্জ নিয়ে সরগরম রাজ্য। প্রশ্ন উঠছে অতিসক্রিয়তা নিয়েও। কিন্তু, কেন চাকরিহারা শিক্ষকদের প্রতি এমন আচরণ পুলিসের? কোনও বহিরাগতদের উস্কানির গন্ধ পেয়েছিল পুলিস? এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে ‘হালকা বলপ্রয়োগের’ স্বপক্ষে যুক্তি দিল লালবাজার। কলকাতা পুলিস সূত্রে পাওয়া সেই ভিডিওতে (সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান) এক বিক্ষোভকারীকে বলতে দেখা যাচ্ছে— ‘পেট্রোল দিয়ে জায়গাটা জ্বালিয়ে দাও’। পুলিসের প্রশ্ন, এধরনের আগ্রাসী আচরণ কি শিক্ষকদের পক্ষে করা সম্ভব? নাকি এই আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে কোনও বিশেষ ইন্ধন? স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিস। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার কলকাতা পুলিসের তরফে ‘অতিসক্রিয়’ পদক্ষেপের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে চারটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। তৃতীয় ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, গোলাপি টি–‌শার্ট পরা এক যুবক চেঁচিয়ে বার্তা দিচ্ছেন ‘‌পেট্রল দিয়ে জায়গাটা জ্বালিয়ে দাও...।’ এই হুঙ্কার দিয়ে তিনি পালিয়ে যান। এ প্রসঙ্গে কলকাতা পুলিসের যুগ্ম নগরপাল (‌সদর)‌ মিরাজ খালিদ বলেন, ‘ঘটনার দিনের প্রতিটি ভিডিও ক্লিপ এবং ওই এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে যুবক ভিড়ের মধ্যে ওই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন তাঁকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁর সন্ধান শুরু হয়েছে।’ পুলিসকর্তার কথায়, ‘ঘটনার সময় সেখানে শিক্ষকদের ভিড়ে কোনও দুষ্কৃতী বা বহিরাগত ব্যক্তি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’‌ ওইদিন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিসের ধস্তাধস্তিতে সার্জেন্ট তন্ময় মণ্ডল ‌সহ ৬ জন পুলিসকর্মী জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন মহিলা কনস্টেবলও আছেন। সূত্রের খবর, তাঁরা প্রত্যেকেই এখন স্থিতিশীল রয়েছেন। গার্ডরেল পড়ে সার্জেন্টের পা ভাঙে। তিনি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 
অন্যদিকে, ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, এক সাব ইনসপেক্টর বিক্ষোভকারী শিক্ষককে লাথি মারছেন। লালবাজার সূত্রের খবর, এপ্রসঙ্গে ডেপুটি কমিশনার (সাউথ সাবার্বান) বিদিশা কলিতার থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন লালবাজারের পদস্থকর্তারা। কেন পুলিসকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছিল? কেন ওই পুলিস অফিসার এক প্রতিবাদীকে লাথি মারলেন, সেসব কিছু নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান করে সেই রিপোর্ট লালবাজারে জমা করতে হবে। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করেই পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে। অভিযুক্ত অফিসারের ডিসি অফিসে ‘পুটআপ’ নেওয়া হয়। কেন তিনি এমন ঘটনা ঘটালেন তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ