নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমানে তৈরি দুর্গামূর্তির পুজো হবে সুদূর কানাডার অন্টারিওয়। বেশ কিছুদিন আগেই সেই মূর্তি গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়ে গিয়েছে। বোধনের আগেই মণ্ডপে দশভুজার মূর্তি পৌঁছে যাবে। বর্ধমানের শিল্পী সিদ্ধার্থ পাল এবং তন্দ্রা পাল আড়াই কেজি ওজনের মূর্তিটি তৈরি করেছেন। এবারই প্রথম পাল দম্পতির তৈরি দুর্গামূর্তি বিদেশে পাড়ি দিয়েছে। স্বভাবতই তাঁরা উচ্ছ্বসিত। তাঁরা বলেন, আমাদের তৈরি মূর্তি আগে বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছে। তবে, বিদেশে দুর্গামূর্তি পাঠানোর অভিজ্ঞতা এই প্রথম। ক্যুরিয়ারের মাধ্যমে মূর্তি গিয়েছে। এক পরিচিতের মাধ্যমেই কাজের বরাত পেয়েছিলাম। আগামী বছরগুলিতে বিদেশ থেকে আরও বেশি অর্ডার আসবে বলে তাঁরা আশাবাদী। ফাইবার গ্লাসের তৈরি এই দুর্গা প্রতিমা ৩০ ইঞ্চি চওড়া ও ২০ ইঞ্চি লম্বা।
শিল্পী বলেন, এর আগে নরওয়েতে লক্ষ্মী, সরস্বতীর মূর্তি গিয়েছে। বিদেশে মূর্তি পাঠাতে হলে অনেক বেশি যত্ন নিতে হয়। ধৈর্য্য ধরে কাজ করা দরকার। এবার হঠাৎ করেই নদীয়ার এক পরিচিতের মাধ্যমে বিদেশে দুর্গামূর্তি পাঠানোর বরাত পেয়েছিলাম। সময় বেশি ছিল না। ২০-২৫দিনের মধ্যে সাবেকি একচালার মূর্তিটি তৈরি করেছি। বেশি বড় মূর্তি পাঠানো সম্ভব ছিল না। ক্যুরিয়ারে যাতে পাঠানো যায়, সেইভাবেই দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করা হয়েছিল। শিল্পী আরও বলেন, ভিডিও কলের মাধ্যমে নিজের হাতে তৈরি দুর্গা প্রতিমার পুজো দেখার ইচ্ছে রয়েছে। সেই সুযোগ হবে কি না, জানি না। তবে বিদেশে আমার তৈরি মূর্তির পুজো হচ্ছে, এটাই বড় বিষয়। পুজো শেষ হয়ে যাওয়ার পর মূর্তিটি উদ্যোক্তারা মণ্ডপে রাখতে পারবেন।
বর্ধমান জেলায় একাধিক ছোট ‘কুমোরটুলি’ রয়েছে। শহরের বেশিরভাগ দুর্গা প্রতিমা এখানেই তৈরি হয়। কোনও কোনও পুজো উদ্যোক্তা অবশ্য নদীয়া থেকেও মূর্তি নিয়ে আসেন। বর্ধমান থেকে মূর্তি আশপাশের বিভিন্ন জেলায় গিয়েছে। বিদেশে মূর্তি যাওয়ার দৃষ্টান্ত খুব বেশি নেই। সিদ্ধার্থবাবুর হাত ধরে সেই দরজা খুলে গিয়েছে। আগামী বছরগুলিতে অন্যান্যদেরও সেই সুযোগ হতে পারে। সিদ্ধার্থবাবুর মূর্তিটি দেখে অনেকেই উচ্ছ্বসিত। তাঁরা বলেন, উনি নিপুণ শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তুলেছেন। একচালার মধ্যেই কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী এবং সরস্বতীর মূর্তি তৈরি করেছেন।
এই কাজে সিদ্ধার্থবাবুর প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন স্ত্রী তন্দ্রা পাল। স্বামীকে সহযোগিতা করতে পেরে তিনিও খুশি। তিনি বলছেন, প্রতিমা তৈরি করতে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল। সেটা পেরেছি। আমাদের তৈরি প্রতিমা কানাডায় পুজো হবে, এটা ভাবতেও ভালো লাগছে। -নিজস্ব চিত্র