অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: প্রথাগত যুদ্ধ এখন বদলে গিয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনই কার্যত ‘এক্স ফ্যাক্টর’। তাই হামলা রুখতে ইতিমধ্যেই কাউন্টার ড্রোন গ্রিডের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এবার স্মার্ট সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফের ইতিহাসে প্রথমবার যুক্ত হল মহিলা পরিচালিত ড্রোন স্কোয়াড্রন। দেশের প্রথম এই বাহিনীর নাম দেওয়া হয়েছে, ‘দুর্গা ড্রোন স্কোয়াড্রন’। সীমান্তে নজরদারি, অপারেশন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহসহ নানা ধরনের কাজ করবে এই বিশেষ বাহিনী। দেশের প্রথম ব্যাচের এখন প্রশিক্ষণ চলছে।
১৯৬৫ সালের ১ ডিসেম্বর বিএসএফের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। মূলত, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এই বাহিনী গঠন হয়েছিল। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুরুতে ২৫টি ব্যাটলিয়ন নিয়ে গঠিত হয়। পরে পাঞ্জাব, জম্মু-কাশ্মীর, উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে প্রসারিত হয়। বর্তমানে বিএসএফের চারটি এনডিআরএফ-সহ মোট ১৯২টি ব্যাটালিয়ন। সাতটি বিএসএফ আর্টিলারি রেজিমেন্ট পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে। পাক-বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক চেক পোস্টেও ২৪ ঘণ্টা কর্মরত এই জওয়ানরা। বিএসএফের মহিলা জওয়ানের সঙ্গে বহু। দিন দিন তরুণ প্রজন্মের মেয়েরাও বিএসএফে যোগদানে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। পাহাড় থেকে সমতল সর্বত্রই মহিলা বাহিনী এখন পাহারা দিচ্ছে। সেই গর্বের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হল মহিলা পরিচালিত এই বিশেষ ড্রোন বাহিনী। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে বিএসএফ একাডেমির স্কুল অব ড্রোন ওয়ারফেয়ারে এই বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মাদুর্গার নাম অনুসারেই এই ইউনিটের নামকারণ করা হয়েছে, ‘দুর্গা ড্রোন স্কোয়াড্রন’। মহিলা কর্মীদের ড্রোন পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা, বিভিন্ন ধরনের নজরদারি মিশন পরিচালনা করা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের নানা ধরনের কৌশল তাঁদের শেখানো হচ্ছে। ওইসঙ্গে সীমান্তে ড্রোন হুমকি মোকাবিলার প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁরা পাল্টা প্রতিরোধ করতে পারেন। তার মধ্যে রয়েছে ইলেক্ট্রনিক শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁরা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই বাহিনী ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেকোনও অনুসন্ধান এবং উদ্ধার অভিযান ও দুর্যোগ মোকাবিলাতেও প্রযুক্তিগত দক্ষতা গড়ে তুলবে। সেই প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে ‘দুর্গা’দের।