রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: কোভিড পর্বের ধাক্কা সামলে এখনও পুরোপুরি ছন্দে ফেরেনি ব্রিটেনের অর্থনীতি। এরমধ্যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো নেমে এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের কোপ। তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে ব্রিটেন। অন্যান্য দেশের তুলনায় ব্রিটেনের উপর অপেক্ষাকৃত কম কর চাপিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মাত্র ১০ শতাংশ। কিন্তু গাড়িতে তা ২৫ শতাংশ! এই শুল্কের বোঝা বইতে গিয়েই রপ্তানি নির্ভর দেশের আর্থিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে চলেছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর)-এর রিপোর্টও একই কথা বলছে। সংস্থার রিসার্চ ফেলো প্রাণেশ নারায়ণের মতে, আমেরিকায় গাড়ি রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্রিটেন। ট্রাম্পের শুল্ক নীতির জেরে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার, মিনি’র মতো গাড়ি রপ্তানি সমস্যার মুখে পড়বে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কাজ হারাবেন হাজার হাজার মানুষ।
শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডস জানিয়েছেন, শুল্ক সংক্রান্ত আর্থিক বোঝাপড়ার নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। তাতে কাজ না হলে পাল্টা কর চাপানোরও রাস্তা খোলা রাখছেন তাঁরা। এই আর্থিক টালমাটাল অবস্থায় ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করতে আগ্রহী ব্রিটিশ সরকার। ভারতও আশাবাদী। নয়াদিল্লি আশ্বাস দিয়েছে, কর যুদ্ধের প্রভাব এতে পড়বে না। মঙ্গলবার লন্ডনের ইন্ডিয়া হাউসে একটি আলোচনা সভায় যোগ দিয়েছিলেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বিষয়বস্তু ছিল, ২০৪৭ সালের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে ভারতের সামনে কী কী সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেখানে সীতারামন জানান, আন্তর্জাতিক পরিসরে নয়া অনিশ্চয়তার মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক মঞ্চের থেকে দ্বিপাক্ষিক পথে এগনো দরকার। মতাদর্শগত ফারাক সহ অন্যান্য প্রতিকূলতা বর্তমানে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। বরং আর্থিক ও কৌশলগত পরিস্থিতির দিকে তাকিয়েই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
মার্কিন শুল্ক-যুদ্ধের জেরে উদ্বিগ্ন সংস্থাগুলির পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। ব্রিটেনে টাটা গোষ্ঠীর জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের সদর দপ্তরের মঞ্চকে ব্যবহার করেই স্টারমার জানিয়েছেন, অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে হাউজিং, পরিকাঠামো, শিল্পে উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করতেও তৎপর প্রশাসন। এই আবহে বিনিয়োগে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সরকারের উপর আস্থা রাখছে স্কচ হুইস্কি অ্যাসোসিয়েশন ও ফুড অ্যান্ড ড্রিঙ্ক ফেডারেশন।
ব্রিটেনের ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান লর্ড করণ বিলিমোরিয়ার পরামর্শ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাত্র ১৩ শতাংশ আমেরিকা নির্ভর। বাকি প্রায় ৮৭ শতাংশ বাণিজ্যের পরিসর রয়েছে। ব্রিটেনকে এই সুযোগ নিতে হবে। আমেরিকার সঙ্গে দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে বাকিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে।