সংবাদদাতা, বনগাঁ: চেয়ারম্যান গোপাল শেঠের বিরুদ্ধে অনাস্থাকে ঘিরে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্বে দুষ্কৃতী তাণ্ডবের অভিযোগ উঠল বনগাঁয়। পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে। গুলি-বোমা হাতে দুষ্কৃতীদের দাপাদাপিতে আতঙ্কে বাসিন্দারা। চেয়ারম্যান গোপাল শেঠের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই না করা ৬ জন মহিলা কাউন্সিলারের বাড়িতে বুধবার রাতে আক্রমণ চালাল দুষ্কৃতীরা। এছাড়া চেয়ারম্যান ঘনিষ্ঠ আরও দুই নেতার বাড়িতেও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, প্রায় শ’খানের দুষ্কৃতী ২০ থেকে ২২টি বাইকে চেপে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে। বোমাবাজি, গুলি চলে ভোররাত পর্যন্ত। পুলিশের বিরুদ্ধেও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বনগাঁ থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন আক্রান্ত কাউন্সিলাররা। ঘটনায় দলের সাংগঠনিক জেলা সভাপতিকে দায়ী করেছেন তাঁরা। কাউন্সিলার শর্মিলা বৈরাগী বলেন, কাপুরুষোচিত আক্রমণ। অনাস্থায় সই করলে টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। রাজি না হওয়ায় হুমকি দেওয়া হয়। তাতেও রাজি না হওয়ায় রাতের অন্ধকারে আক্রমণ করা হয়েছে। যদিও এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি জেলা সভাপতি। তবে গোটা ঘটনায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও প্রকট হল বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শিখা ঘোষের বাড়িতে প্রথমে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। ইটবৃষ্টি চলে। কিছুক্ষণ পরই ৮, ৯, ১১, ১৯ ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলারের বাড়িতে বোমাবাজি, গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ভোর চারটে পর্যন্ত দুষ্কৃতী তাণ্ডব চললেও পুলিশের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। আক্রান্ত কাউন্সিলারদের দাবি, ঘটনার পর পুলিশ গুলির খোল উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছে। ঘটনার সময় পুলিশ আধিকারিকদের ফোন করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি বলে অভিযোগ। এই প্রসঙ্গে জানতে বনগাঁ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার দীনেশ কুমারকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি তাঁকে মেসেজ করা হলেও উত্তর মেলেনি।
এদিন আক্রান্ত কাউন্সিলারদের বাড়িতে যান বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান মমতা ঠাকুর। তিনি বলেন, অনাস্থার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে বনগাঁর বুকে এধরনের ঘটনা আগে হয়নি। ভয়াবহ পরিস্থিতি। বিষয়টি দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সহ সভাপতি প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। আমরা পুলিশকে বলব ঘটনার সঠিক তদন্ত করতে। এদিন ঘটনার প্রতিবাদে বনগাঁয় মিছিল করে সিপিএম। সিপিএম এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুমিত কর বলেন, বুধবার রাতের ঘটনার পর মনে হচ্ছে প্রশাসন বলে কিছু নেই। বনগাঁবাসী এই ঘটনায় আতঙ্কিত। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপিও।