Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শোলার ভেলায় চেপে মাঝনদী থেকে দেহ উদ্ধার করল কিশোর, পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত পঞ্চায়েতের

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শোলার ভেলায় চেপে মাঝনদী থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে আনল এক কিশোর! রোহিত সরকার নামে ১৪ বছরের ওই কিশোরের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এলাকার কয়েকশো বাসিন্দা।

শোলার ভেলায় চেপে মাঝনদী থেকে দেহ উদ্ধার করল কিশোর, পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত পঞ্চায়েতের
  • ১১ আগস্ট, ২০২৫ ২০:০৮
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শোলার ভেলায় চেপে মাঝনদী থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে আনল এক কিশোর! রোহিত সরকার নামে ১৪ বছরের ওই কিশোরের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এলাকার কয়েকশো বাসিন্দা। যা দেখে শেষমেশ রোহিতকে পুরস্কৃত করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া খড়িয়া পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

আজ, সোমবার দুপুর ১২টা নাগাদ জলপাইগুড়ির গন্ডারমোড় সংলগ্ন খাটাল এলাকার বাসিন্দারা দেখতে পান বর্ষায় টইটম্বুর করলা নদীতে একটি দেহ ভাসছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা পঞ্চায়েতে খবর দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে চলে আসেন খড়িয়া পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান মনোজ ঘোষ। আসে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিসও। ধীরে ধীরে নদীর পাড়ে ভিড় বাড়তে থাকে। গত শনিবার দুপুর থেকে জলপাইগুড়ি শহরের বামনপাড়ার বাসিন্দা গৌতম দে (৫২) নামে এক প্রৌঢ় নিখোঁজ ছিলেন। করলায় দেহ ভাসার খবর পেয়ে তাঁর বাড়ির লোকজনও অকুস্থলে চলে আসেন। তাঁরা দূর থেকে দেখে দেহটি চিনতে পারেন। কিন্তু মাঝনদীতে পৌঁছানো সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এদিকে পুলিসের কাছে কোনও নৌকা নেই। দূরের ঘাটে একটি নৌকা বাঁধা থাকলেও দেহ উদ্ধারে সেটি দিতে রাজি হননি মাঝি। পঞ্চায়েতও নৌকা জোগাড় করতে অপারগ হয়। এভাবে কেটে যায় প্রায় চার ঘণ্টা। এবার শুরু হয় সিভিল ডিফেন্সের নম্বর জোগাড়ের পালা। ঠিক সেসময় ‘মুশকিল আসান’-এ এগিয়ে আসে নবম শ্রেণীর ছাত্র রোহিত। সে খড়িয়া পঞ্চায়েতের সারদাপল্লির বাসিন্দা। বাড়ির পাশে একজনের কাছ থেকে শোলার ভেলা জোগাড় করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভরা নদীতে নেমে পড়ে সে। ভেলায় তুলে নেয় পুলিসের সঙ্গে দেহ উদ্ধারে আসা একজনকে। তারপর নিজেই লাঠি দিয়ে ওই শোলার ভেলা চালিয়ে পৌঁছে যায় মাঝনদীতে। তারপর দু’জনে মিলে দড়ি বেঁধে নদীতে ভাসতে থাকা দেহটি টানতে টানতে পাড়ে নিয়ে আসে।

ওই কিশোর জানিয়েছে, অনেকক্ষণ ধরেই দেহটি নদীতে ভাসছিল। কিন্তু কেউই নদীতে নামার সাহস পাচ্ছিল না। নৌকাও মিলছিল না। তাই এলাকার একটি বাড়ি থেকে শোলার ভেলা জোগাড় করে তাতে চেপেই নদীতে নেমে পড়ি। দেহ উদ্ধারের কাজে সাহায্য করতে গিয়ে একটু ভয়ও লাগছিল। তবে মনে হল এটা ভালো কাজ। তাই করলাম।

বিষয়টিতে খড়িয়া পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মনোজ ঘোষ বলেন, এদিন মাঝনদীতে ভাসতে থাকা দেহ উদ্ধারের সময়ে বুঝতে পারলাম পঞ্চায়েতের নিজস্ব নৌকা রাখা কতটা জরুরি। রোহিত নামের ওই কিশোর যদি শোলার ভেলা চেপে মাঝনদীতে না পৌঁছতে পারত হয়তো দেহ উদ্ধারে আরও সময় লাগত। ছেলেটিকে আমরা পঞ্চায়েতের তরফে সংবর্ধিত ও পুরস্কৃত করব।

সম্পর্কিত সংবাদ