নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাড়িতে স্ত্রীর সঙ্গে অশান্তি। এক সময়ে বচসা তুমুল আকার নিলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান বৃদ্ধ। তারপর পাঁচ দিন খবর নেই তাঁর। শেষমেশ পঞ্চসায়র থানা এলাকার এক হোটেল থেকে উদ্ধার হল বছর পঁয়ষট্টির জয়ন্ত সেনগুপ্তের দেহ। দক্ষিণ দমদম পুরসভা এলাকার প্রফুল্লনগরে বাড়ি জয়ন্তবাবুর। বাড়ি থেকে ২৪ কিমি দূরে গিয়ে কেনই বা তিনি হোটেলে উঠতে গেলেন, কী কারণে তাঁর মৃত্যু হল, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। কলকাতা পুলিসের পঞ্চসায়র থানা অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
কলকাতা পুলিসের ইস্ট ডিভিশন সূত্রে খবর, এদিন সকালে বারাকপুর পুলিস কমিশনারেট থেকে পঞ্চসায়র থানায় একটি ফোন আসে। তাতে বলা হয়, নাগেরবাজার থানা এলাকার বাসিন্দা জয়ন্ত সেনগুপ্ত গত ১৮ আগস্ট থেকে নিখোঁজ। তাঁর ছেলে নিখোঁজ ডায়েরি করেছেন। নিখোঁজের মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে দেখা গিয়েছে, তিনি পঞ্চসায়র থানা এলাকায় রয়েছেন। সেই ফোন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট লোকেশনে যায় পুলিস। দেখা যায়, সেটি নয়াবাদের কাছে একটি হোটেল। সেখানে জিজ্ঞাসা করলে কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৮ আগস্ট থেকে তিনি এই হোটেলে রয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবারের পর আর ঘর থেকে বের হননি।
হোটেলের রেজিস্টার দেখে পুলিস জানতে পারে, ১৮ তারিখ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত হোটেলের যাবতীয় খরচ মিটিয়ে দিয়েছেন জয়ন্তবাবু। কিন্তু, শুক্রবার দুপরের পর থেকে আর খাবারের অর্ডার দেননি তিনি। তা শুনেই সন্দেহ হয় পুলিসের। দোতলার ওই ঘরে গিয়ে পুলিস দরজায় ধাক্কা দিলেও খোলেননি বৃদ্ধ। ভিতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় পুলিস তা ভাঙতে বাধ্য হয়। দেখা যায়, হোটেলের ঘরের বিছানাতে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন জয়ন্তবাবু। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিস। সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। মৃতের পরিবারকে খবর দেওয়া পুলিস। লালবাজার জানিয়েছে,দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। হোটেলের ঘর থেকে মদের বোতল পাওয়া গিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে মৃতের ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, বাড়িতে মদ্যপানের জেরে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদ হয় তাঁর। এরপর ঘর ছাড়েন তিনি। প্রাথমিকভাবে পুলিসের অনুমান, হোটেলে অত্যধিক মদ্যপানের জেরেই মৃত্যু হতে পারে বৃদ্ধের। তবে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আসার আগে স্পষ্ট করে কিছু বলতে নারাজ পুলিস।