Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রক্তারক্তি, রণক্ষেত্র পার্টি অফিস সিপিএমের বৈঠকে তুলকালাম

শনিবার সন্ধ্যায় সবে শুরু হয়েছে সিপিএমের কসবা ১ এরিয়া কমিটির বৈঠক।

রক্তারক্তি, রণক্ষেত্র পার্টি অফিস সিপিএমের বৈঠকে তুলকালাম
  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শনিবার সন্ধ্যায় সবে শুরু হয়েছে সিপিএমের কসবা ১ এরিয়া কমিটির বৈঠক। একথা-ওকথার মধ্যে আচমকাই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পার্টি অফিস! অভিযোগ, কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতিতে গড়ায় পরিস্থিতি। এমনকী, রক্তারক্তিও হয়। এই তুলকালাম পরিস্থিতি শান্ত করতে কয়েকজন পার্টি সদস্য এগিয়ে এলে উল্টে ঝামেলা আরও বেড়ে যায়। আবার শুরু হয়ে যায় হাতাহাতি। কারও দাঁত ভাঙে, কারও নাক ফেটে যায়, সেলাই পড়ে। একজনের হাতও কেটে গিয়েছে। সেই হাতে বেশ কয়েকটি সেলাই পড়েছে বলে খবর। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এসব যখন ঘটছে, তখন সেখানে উপস্থিত জেলা নেতৃত্বও। লাল-পার্টির এই কাণ্ডকারখানা দেখে অনেকেই বিস্মিত। কারণ, বামপন্থী রাজনীতির পরিসরে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। 

Advertisement

কসবা ১ এরিয়া কমিটি সিপিএমের কলকাতা জেলা কমিটির অংশ। সূত্রের খবর, ওই পার্টি অফিস থেকেই গোটা ঘটনা দলের কলকাতা জেলা সম্পাদক তথা রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কল্লোল মজুমদারকে মৌখিকভাবে জানানো হয়। কল্লোলবাবুকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু কথা শুনেছি। লিখিত অভিযোগ এখনও পাইনি। পুরোটা খোঁজ নিয়ে তবেই বলতে পারব।’ তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে? তিনি বলেন, ‘এখনই কিছু বলতে পারছি না। গোটা ঘটনা আগে জানতে হবে।’ দলের কলকাতা জেলা অফিস প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবন পর্যন্ত এই কোন্দলের খবর চলে যাওয়ায় বেশ অস্বস্তিতে পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বও। স্থানীয় নেতৃত্ব এনিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি। ঠিক কী কারণে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কলকাতা পুরসভার ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত সিপিএম কার্যালয়? সূত্রের খবর, কোনও একটি বিষয়ে অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন এক পার্টি সদস্য। তিনি বৈঠক থেকে আগেভাগে বেরিয়ে যেতে চাইছিলেন। সেখান থেকেই ঝামেলার সূত্রপাত। তারপর কথা কাটাকাটি-হাতাহাতি-রক্তপাত। 
সমস্যা যেন পিছু ছাড়ছে না সিপিএমের কলকাতা জেলা পার্টির। রাজ্য সম্মেলনের আগে টালিগঞ্জ ২ এরিয়া কমিটির সম্মেলনে নেতৃত্বের সামনেই তুমুল বাগবিতণ্ডা শুরু হয়ে গিয়েছিল। তা নিয়ে ঢি ঢি পড়ে যায় রাজনৈতিক মহলে। ‘ঝগড়া’র ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরতে থাকে। ওই ঘটনা নিয়ে তদন্তও শুরু করেছিল জেলা পার্টি। সেই বিতর্ক মিটতে না মিটতেই দলের একাধিক তরুণ নেতাকে নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবনকে। পার্টির কর্মী-সমর্থকদের বক্তব্য, এবার তো অস্বস্তি আরও বাড়ল! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ