Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শুনানিতে বিএলএদের ঢুকতে  দেওয়া হবে না, জানাল কমিশন

ভিড় বেড়ে যাবে। এই যুক্তিতে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকে ইআরও  অফিসের শুনানিতে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তৃণমূলের দাবি অগ্রাহ্য করে এমনটাই জানিয়ে দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন।

শুনানিতে বিএলএদের ঢুকতে  দেওয়া হবে না, জানাল কমিশন
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভিড় বেড়ে যাবে। এই যুক্তিতে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকে ইআরও  অফিসের শুনানিতে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তৃণমূলের দাবি অগ্রাহ্য করে এমনটাই জানিয়ে দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ফলে জারি রইল যুদ্ধ। ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসিস’র তালিকায় পড়া ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের হিয়ারিংয়ে কোনওভাবেই বিএলএ (বুথ লেভেল এজেন্টস)-কে ঢুকতে দেওয়া হবে না। ষাটোর্ধ্ব-অসুস্থদেরও যেতে হবে ইআরও’র কাছেই। তবে ৮৫ বছরের বেশি বয়সি নাগরিকদের ক্ষেত্রে অবশ্য বাড়ি গিয়ে তালিকা শুদ্ধকরণ হবে।

Advertisement

১৬ ডিসেম্বর প্রকাশ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের (এসআইআর) খসড়া তালিকা। বাদ গিয়েছে ৫৮ লক্ষ ১৯ হাজার নাম। মৃত, স্থানান্তরিত এবং একই ব্যক্তির একাধিক কেন্দ্রে নাম থাকাতেই তা বাদ। পাশাপাশি, নামের বানান ভুল, ভোটারের সঙ্গে তাঁর বাবা-মা’র বয়সের সন্দেহজনক ফারাকের মতো কিছু গোলমাল ধরা পড়েছে। এই পর্বে তাঁদের ডাকা হচ্ছে শুনানিতে। তবে অনেকেই অসুস্থ বা বয়সজনিত কারণে যেতে পারছেন না বলে দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছিল তৃণমূল। 
দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল বুধবার দাবি করেছিল, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেনসিস’র নামে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নাগরিককে কমিশন শুনানির জন্য ডাকছে। সেখানে রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টস (বিএলএ-২)-কে উপস্থিত থাকতে দিতে হবে। ইআরও ইচ্ছাকৃতভাবে কারও নাম বাদ দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখবেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তৃণমূলের এই দাবি মানা সম্ভব নয়। কেন ঢুকতে দেওয়া হবে না? এক কথায় কমিশনের বক্তব্য, ভিড়। বাংলায় আট রাজনৈতিক দলের বিএলএ (বুথ লেভেল এজেন্টস) রয়েছে। ঩হিয়ারিংয়ে প্রতিটি দল একজন করে বিএলএ পাঠালেও ইআরও’র ঘরে ভিড় হয়ে যাবে। গোলমালের আশঙ্কাও রয়েছে। তাই খসড়া তালিকায় নাম থাকা ভোটারকেই সন্দেহ ঘোচাতে যেতে হবে। সামান্য কিছু নথি, জিজ্ঞাসার পর নাম ‘ওকে’ করা হবে। খসড়া তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিকে বাদ দিতে চায় না কমিশন। তবে তালিকা শুদ্ধকরণের লক্ষ্যেই এই শুনানি। কমিশন আরও জানিয়েছে, ৮৫ ঊর্ধ্বদের ক্ষেত্রে দু’টি কারণে বাড়ি গিয়ে শুনানি হবে। এক, প্রকৃতই ওই ব্যক্তি জীবিত কি না, তা যাচাই করা হবে। দ্বিতীয়ত, এই বয়সের নাগরিকের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম। তাই বাড়ি গিয়ে শুনানি সম্ভব। কিন্তু তৃণমূলের দাবি মেনে ষাটোর্ধ্বকেও যুক্ত করতে গেলে যে লোকবল প্রয়োজন, তা কমিশনের নেই। তাই ল঩জিক্যাল ডিসক্রিপেনসিসে ষাটোর্ধ্ব, তিনি যদি অসুস্থও হন, তাহলে ইআরও অফিসে ব্যক্তিগত হাজিরা দিতে হবে। তিনবার ডেকে পাঠানোর নোটিশ পাঠানো হবে। না এলে নাম বাদ দেওয়াই নিয়ম। তবে ইআরও মনে করলে ছাড়ও দিতে পারেন বলে আশ্বাস দিয়েছে কমিশন। শুনানি পর্যায়ে শেষ কথা বলবেন ইআরও। তিনি কাউকে ‘ওকে’ করলে কমিশনের নিয়োগ করা মাইক্রো অবজার্ভারও আপত্তি করতে পারবেন না।

সম্পর্কিত সংবাদ