Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

২৪৭ বিক্রেতার নাম পাঠাল রাজ্য পুলিস

২৪৭ বিক্রেতার নাম পাঠাল রাজ্য পুলিস
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: একজনের ছবি ও নথি ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন হওয়া সিমকার্ড চলে যাচ্ছে অন্যের হাতে। সেইসব ভুয়ো সিমকার্ড ব্যবহার করে দেদার সাইবার প্রতারণা চলছে। ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল(এনসিআরপি)তে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে সিমকার্ড খতিয়ে দেখে ওইসব সিম বিক্রির পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এরকম ২৪৭টি পয়েন্ট অব সেল(পিওএস) চিহ্নিত করে তার তালিকা পাঠিয়েছেন এডিজি(সাইবার)। ১৭ফেব্রুয়ারি রাজ্য পুলিসের সর্বোচ্চ স্তর থেকে ওই তালিকা জেলায় পাঠানো হয়। তারপরই পূর্ব মেদিনীপুরের সাইবার সেলের নোডাল অফিসার ডিএসপি(ডিইবি) শান্তব্রত চন্দ ১৮ফেব্রুয়ারি সবকটি থানাকে ওই লিস্ট ফরোয়ার্ড করে কেস করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেইমতো প্রায় সবকটি থানার পুলিস ওইসব মোবাইলের সিমকার্ড বিক্রির দোকানে হানা দিচ্ছে। পাশাপাশি সুয়োমোটো মামলা করছে পুলিস।
Advertisement
পাঁশকুড়া থানার প্রতাপপুরে রায়বাঁধ এলাকায় এক সিমকার্ড বিক্রেতার নাম ওই তালিকা রয়েছে। ২০তারিখ ওই থানার পুলিসের একটি টিম সেই দোকানে  হানা দেয়। পুলিস মানিকলাল সামন্ত নামে ওই দোকানদারের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে। পাঁশকুড়ায় মোট চারটি সিমকার্ড বিক্রির কাউন্টারের নাম ওই তালিকায় রয়েছে। বাকি তিনজন সিম বিক্রি বন্ধ করে অন্য পেশায় চলে গিয়েছে বলে জেনেছে পুলিস। একইভাবে পটাশপুর থানার অমর্ষি ও আড়গোয়াল, মহিষাদল থানার রঙ্গীবসান ও লক্ষ্যা, কাঁথির বসন্তিয়া ও ভবানীচক, মন্দারমণি কোস্টাল থানার অধীন কালিন্দী, চণ্ডীপুর থানার মুরাদপুর, ভূপতিনগর থানার জুখিয়াবাজার, কোলাঘাটের দেড়িয়াচক, নন্দীগ্রাম থানার নন্দীগ্রাম বাজার, এগরা থানার বালিঘাই এলাকা থেকে ভুয়ো সিমকার্ড বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। ওইসব এলাকার সিমকার্ড বিক্রির দোকানের নাম উল্লেখ করে সেখানে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রায় প্রতিটি থানাকে এনিয়ে চিঠি পাঠানোর পরই পুলিসের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে। জানা গিয়েছে, একজনের নথি ও ছবি ব্যবহার করে সিমকার্ড রেজিস্ট্রেশনের পর সেই নম্বর থেকে সাইবার প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। সাইবার প্রতারণার পরই এনিয়ে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে অভিযোগ নথিভুক্ত হয়। সেইসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গিয়ে ভুয়ো সিমকার্ডের বিষয়টি সামনে আসছে। তাতে ওই সিমকার্ড কোন এলাকা থেকে তোলা হয়েছে সেই তথ্যও পুলিসের হাতে এসেছে। কেন ডুপ্লিকেট সিম বানানো হয়েছে তানিয়ে ওই বিক্রেতাদের কাছে জানতে চাইছে পুলিস। এগরা থানার বালিঘাইয়ের ওই সিমকার্ড বিক্রেতার বিরুদ্ধে এর আগেও বহু অভিযোগ এসেছে বলে জেলা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। আপাতত ২৪৭টি দোকানে হানা দিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। সেই রিপোর্ট চেয়েছে রাজ্য পুলিস। তার ভিত্তিতে জোরকদমে অভিযান চলছে। জেলা পুলিসের এক অফিসার বলেন, এডিজি(সাইবার) প্রায় সবকটি জেলায় এনিয়ে তালিকা পাঠিয়েছেন। পূর্ব মেদিনীপুরে যে তালিকা এসেছে তাতে ২৪৭টি সিমকার্ড বিক্রির পয়েন্টের নাম রয়েছে। জায়গার নাম এবং সিমকার্ড বিক্রির ওই দোকানের নাম দেওয়া আছে। সেইমতো প্রতিটি জায়গায় পুলিস পৌঁছবে। আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ