


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি চুরি করবে। এমনই অভিযোগ তৃণমূলের। এই চুরি আটকাতে১০০ শতাংশ ইনিউমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নয়া স্ট্যাটেজি তৈরি করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্য মন্ত্রিসভার বাছাই ১১ মন্ত্রী সহ মোট ১৪ জন নেতাকে জেলা ভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হল। এছাড়াও ১০ জন সাংসদ যাবেন দিল্লি। দেখা করবেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় ইনিউমারেশন ফর্ম জমা নেওয়া চলবে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। গত সপ্তাহ পর্যন্ত কোথায়, কত সংখ্যক ফর্ম জমা পড়েছে, তার তথ্য সামনে রেখে সোমবার পর্যালোচনা বৈঠক করে তৃণমূল। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির উপস্থিতিতে ভার্চুয়াল বৈঠকে হাজির ছিলেন তৃণমূলের প্রায় ২৫ হাজার পদাধিকারী। বুথ লেভেল এজেন্টরা কেমন কাজ করছেন, ইনিউমারেশন ফর্ম কত শতাংশ জমা পড়েছে, তা বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে পর্যালোচনায়। কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ সহ আরও কয়েকটি জেলায় এসআইআরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর পারফরম্যান্স খারাপ, সে পরিসংখ্যান উঠে এসেছে। বৈঠকে তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বলেছেন, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, বিহারে বিজেপি কী করেছে, সবাই দেখেছেন। এখানেও বিজেপি চুরি করবে। বিজেপির সেই চুরি আমাদের ধরতেই হবে। তাই আমাদের কাজে কোনও শিথিলতা নয়। কোনও আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। তাই সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে আমাদের ভোট রক্ষা শিবির চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। পাশাপাশি নির্বাচন পর্যন্ত আগামী কয়েক মাস দলের জন্য পুরোপুরি সময় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক। বলেছেন, তৃণমূল কর্মীদের আগামী ১৫০ দিন পুরোপুরি সময় দিতে হবে। যার উপর ২০ বছরের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। এক এক একটি দিন আমাদের কাছে যুদ্ধের মতো। এই যুদ্ধে যে বা যারা অংশগ্রহণ করবে না, দল আগামী দিনে তাকে বা তাদেরও দেখবে না।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় আগামী ২৬ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত হোম টাক্স বা বিশেষ কাজ দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের ১৪ জনকে। এই ক’টা দিন দায়িত্বপ্রাপ্ত এই নেতারা জেলায় পড়ে থাকবেন। সবসময় বুথ লেভেল এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন তাঁরা। তৃণমূলের নির্দেশ ফিরহাদ হাকিম কলকাতা দেখবেন। অরূপ বিশ্বাস দেখবেন হুগলি এবং দুই বর্ধমান জেলা। এছাড়াও স্নেহাশিস চক্রবর্তী, মানস ভুঁইয়া, মলয় ঘটক, সামিরুল ইসলাম, বেচারাম মান্না, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (প্রাক্তন পুলিশ কর্তা), দিলীপ মণ্ডল, প্রদীপ মজুমদার, সুজিত বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, উদয়ন গুহ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেলার ভিত্তিক দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ডেরেক ও’ব্রায়েন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ১০ জন সাংসদ যাবেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে। অভিষেকের তোপ, এসআইআর পর্বে যে ৩৫ জন মানুষের প্রাণ গিয়েছে, তারজন্য দায়ী নির্বাচন কমিশন। এই পর্বেই ১০০ দিনের কাজের বকেয়া আদায়ে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল যাবে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে।