নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মুর্শিদাবাদে রামনবমীর মিছিলে অস্ত্র প্রদর্শনী হল। বহরমপুর থেকে শক্তিপুর-সমস্ত মিছিলেই অস্ত্র হাতে উৎসাহী যুবকদের ভিড় দেখা গিয়েছে। আর এসমস্ত মিছিলের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিজেপি নেতারা। ফলে রামনবমীর শোভাযাত্রা কার্যত গেরুয়া শিবিরের কর্তৃত্ব কায়েমের লড়াইয়ে পরিণত হয়।
এদিন দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ বহরমপুরের ওয়াইএমএ ময়দান থেকে বিশাল শোভাযাত্রা বের হয়। ডিজে ও ব্যান্ডপার্টি সহযোগে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামে। মিছিলের পুরোভাগে বহরমপুরের বিজেপি সভাপতি মলয় মহাজন, সাধারণ সম্পাদক লাল্টু দাস, মুর্শিদাবাদের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষের মতো নেতাদের দেখা যায়। গৌরীশঙ্করবাবুর সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তারক্ষীরাও ছিলেন। এছাড়াও মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় শতাধিক মিছিল বের হয়। প্রতিটি মিছিলে পুলিসের বাড়তি নজর ছিল।
শক্তিপুরে গতবছর রামনবমীর মিছিল ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। তাই এবছর সেখানে অতিরিক্ত পুলিসবাহিনী মোতায়েন করা হয়। জেলা পুলিসের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও সেখানে হাজির ছিলেন। তবে মিছিল শুরু হতেই বহু রামভক্ত অস্ত্র প্রদর্শনী করে। রামনবমীতে অস্ত্র মিছিলের অনুমতি না দেওয়া হলেও তারা অস্ত্র নিয়ে মিছিলে হাজির হয়েছিল। শক্তিপুরের পাশাপাশি বহরমপুরেও অস্ত্র হাতে উচ্ছ্বসিত যুবকদের নাচতে দেখা যায়।
বহরমপুরের বিজেপি সভাপতি মলয়বাবু বলেন, মিছিলে অংশ নিতে পেরে আমি আনন্দিত। এবছর রামনবমী বহু দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। গতবার শক্তিপুরে শোভাযাত্রায় যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল, তা যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়। বাংলায় হিন্দুদের উপর নানা সময়ে আক্রমণ হচ্ছে। এদিন মানুষ প্রতিটি মিছিলেই উৎসাহের সঙ্গে শামিল হয়েছে। সরকারের উচিত, মানুষকে ধর্মীয় আচরণ পালনে সাহায্য করা। কিন্তু, এই সরকার সেটা করছে না। আমাদের অনেক রামপুজোর অনুমতি পুলিস দেয়নি। সেই সমস্ত নির্দেশ উপেক্ষা করেই এদিন আমরা শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছি। বহরমপুরের এই শোভাযাত্রা থেকে আমাদের বার্তা, মানুষের ধর্মাচরণের অধিকার খর্ব করা যাবে না।
বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সাধারণ সম্পাদক সুখেনকুমার বাগদিও এদিন মিছিলের আয়োজন করেন। বড়ঞার পাঁচথুপি গ্রামে তাঁর বাড়ি। সুখেনবাবু বলেন, প্রায় আড়াইহাজার লোক নিয়ে রামনবমীর মিছিল পুরো গ্রাম পরিক্রমা করেছে। এখানে আমি একজন রামভক্ত হিসেবে মিছিল আয়োজন করেছি। রাজনৈতিক কিছু ব্যাপার নেই। মিছিলে সমস্ত দলের কর্মীরা পা মিলিয়েছিলেন।
তবে অস্ত্র নিয়ে মিছিল করায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আয়োজকদের কথা শোনেনি অংশগ্রহণকারীরা। বহরমপুরের রামনবমীর শোভাযাত্রার আয়োজক কমিটির সম্পাদক শুকদেব বিশ্বাস বলেন, আমর প্রত্যেককে অস্ত্র না রাখার জন্য নিষেধ করেছি। আইন মেনে শোভাযাত্রায় অংশ নিতে বলেছি। যদি কেউ অস্ত্র নিয়ে মিছিলে ঢুকে যায়, তাহলে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। তারাও লক্ষ্য রেখেছে।
নওদায় রামনবমীতে দেখা গেল সম্প্রীতির ছবি। রামনবমীর মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মিষ্টি ও জল দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন ব্লক তৃণমূল সভাপতি শফিউজ্জামান শেখ। তিনি মিছিলে পা মিলিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দেন। শফিউজ্জামান বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। সমস্ত উৎসব এভাবেই শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে হোক-এই কামনা করি।