Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলায় ভোট উৎসব ছারখার করার মতলব বিজেপির, তোপ তৃণমূলের

বাংলায় উৎসবের মেজাজে ভোট হয়। যেকোনো নির্বাচনেই দেখা যায়, বাংলার সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে ভোট উৎসবে মেতে ওঠেন।

বাংলায় ভোট উৎসব ছারখার করার  মতলব বিজেপির, তোপ তৃণমূলের
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় উৎসবের মেজাজে ভোট হয়। যেকোনো নির্বাচনেই দেখা যায়, বাংলার সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে ভোট উৎসবে মেতে ওঠেন। কিন্তু ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ভোট উৎসবকে ছারখার করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। সরাসরি এমনই অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার দলের রাজ্য সদর দপ্তরে এক সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং সাংসদ পার্থ ভৌমিক একত্রে অভিযোগ আনলেন, বাংলার বিরুদ্ধে নানাভাবে চক্রান্ত করছে বিজেপি। ওরা কোনোভাবেই চায় না ভোট উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে হোক। তাই এই উৎসবকে ছারখার করে দেওয়ারই পরিকল্পনা নিয়েছে ওরা।

Advertisement

বাংলায় এই ভোট উৎসবে এর আগে বিভিন্ন সময় দেখা গিয়েছে সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। আবার ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কর্মী, সমর্থকরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি করেছেন। ভোটের দিন একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া হয়েছে। কিন্তু ভোটকে কেন্দ্র করে অশান্তি তৈরির চেষ্টা থেকে বিরত থেকেছেন সকলেই। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর আবহে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে তৃণমূল বিজেপির দিকে আঙুল তুলে বলছে, ওদের মূল লক্ষ্যই হল ভোট উৎসবকে ছারখার করে দেওয়া। চন্দ্রিমাদেবী আরও বলেন, নির্বাচন মানে গণতন্ত্রের উৎসব। আর সেই উৎসবকেই পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। বিজেপির নির্দেশে কাজ করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
তৃণমূলের অভিযোগ, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিজেপির অশুভ চক্রান্তের পর্দাফাঁস হয়েছে বাঁকুড়ায়! রানিবাঁধ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত খাতড়া ব্লকে আগে থেকে পূরণ করা প্রায় তিন থেকে চার হাজার ফর্ম ৭ সমেত একটি গাড়ি আটক করা হয়েছে। ওইগুলিতে ভোটারদের নাম এবং বিস্তারিত তথ্য ভরা ছিল। ফর্মগুলির বেশিরভাগই তালডাংরা কেন্দ্রের। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে পুরো জেলাজুড়েই বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি সুসংগঠিত এবং পরিকল্পিত অভিযান ছিল। এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এতে বিজেপির নির্বাচনি কৌশল সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে গিয়েছে। তারা জনসমর্থনের জোরে নির্বাচনে জিততে পারে না, তাই জাল ফর্মের সাহায্যে গণহারে নাম বাদ দেওয়ার মাধ্যমে তারা ভোট চুরি করে।
তৃণমূলের আরও অভিযোগ, এই জালিয়াতি শুধু বাঁকুড়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। মালদহের ইংরেজবাজার, বাঁকুড়ার রানিবাঁধ ও তালডাংরা, পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ও তমলুক, হুগলির চুঁচুড়া ও চন্দননগর, উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর এবং কলকাতার জোড়াসাঁকো থেকেও উদ্বেগজনক খবর সামনে এসেছে। ফর্মগুলি জমা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যগুলি থেকে লোক আনা হচ্ছে। বিজেপি পরিকল্পনা করেছিল ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ দেওয়ার এবং ওড়িশা, বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে জাল ভোটার আনার। কিন্তু তারা ধরা পড়ে গিয়েছে খাতড়ায় এসে। তাদের একই ধরনের অভিযান চলছে সমগ্র বাংলাজুড়েই। এটি একটি আন্তঃজেলা চক্রান্ত।
সাংসদ পার্থ ভৌমিক বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিকে বিজেপি নির্লজ্জভাবে লঙ্ঘন করছে। কমিশন স্পষ্ট করেই বলেছে যে, খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে একজন  একদিনে, ৫০টির বেশি এবং খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ১০টির বেশি ফর্ম জমা দিতে পারবেন না। তা সত্ত্বেও বিজেপির নেতা, কর্মী এবং বিএলএ’রা অফিসগুলিতে গুচ্ছ গুচ্ছ ৭ নম্বর ফর্ম জমা করতে চড়াও হচ্ছেন। ভোটারদের গণহারে বাদ দেওয়ার মতলবেই এই অন্যায় কারবার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ