


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নবান্ন অভিযান চলাকালে ডিসি (এসএসডি) বিদিশা কলিতার দেহরক্ষী প্রশান্ত পোদ্দারকে মারধরের অভিযোগে এক বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিস। ধৃতের নাম চন্দন গুপ্তা (৪০)। উত্তর ২৪ পরগনায় জগদ্দলের বাসিন্দা চন্দনকে মঙ্গলবার বিকেলে বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট ও বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটের সংযোগস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানিয়েছেন কলকাতা পুলিসের ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার।
৯ আগস্ট নবান্ন অভিযানের দিন নিউ মার্কেট থানার লিন্ডসে স্ট্রিটের ঠিক উল্টোদিকে রাস্তায় ফেলে প্রশান্ত পোদ্দারকে মারধর করা হয়। পুলিসের অভিযোগ, চার-পাঁচজনের একটি দুষ্কৃতী দল লাথি, লাঠি, ইট, পাটকেল দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এর ফলে ওই পুলিসকর্মী গুরুতর জখম হন। তাঁর হেলমেট ভেঙে যায়। পরে এই ঘটনায় নিউ মার্কেট থানায় পুলিসকর্মীকে খুনের চেষ্টা, কর্তব্যরত পুলিসকর্মীকে গুরুতর আঘাত করাসহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্তে নামে। প্রাথমিক তদন্তে নিউ মার্কেট থানার পুলিস সিসিটিভি ফুটেজের পাশাপাশি স্টিল ছবির ভিত্তিতে অন্তত চার-পাঁচজন অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীকে চিহ্নিত করে। তার ভিত্তিতে মঙ্গলবার জগদ্দলের বাসিন্দা তথা চন্দন গুপ্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতকে জেরা করে কলকাতা পুলিস এই হামলার ঘটনায় জড়িত বাকি অভিযুক্তদের হদিশ পেতে চাইছে। পুলিসের দাবি, এখনও অন্তত চারজন পলাতক।
লালবাজার সূত্রের খবর, চন্দন বারাকপুর মণ্ডল-২ এর বিজেপির সাধারণ সম্পাদক। অতীতে কলকাতা পুলিসে ধৃতের নামে কোনও অভিযোগ নেই। তবে বিস্তারিত তথ্যের জন্য বারাকপুর পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগ করছে লালবাজার। চন্দনকে বুধবার দুপুরে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। তাঁর জামিনের আর্জি খারিজ হয়েছে এবং তাঁকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত পুলিস হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এদিকে, নবান্ন অভিযানে পুলিসকে কটূক্তি করার অভিযোগে বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দাকে ১৭ আগস্ট নিউ মার্কেট থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিস। তার আগেই আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা। আগাম জামিন চেয়েছেন কালী খটিকও। তাঁকেও ডেকে পাঠিয়েছে পুলিস। পাশাপাশি বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পান্ডা এবং অর্জুন সিংও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। নবান্ন অভিযানের পরবর্তীকালে যত মামলা দায়ের হয়েছে, সবগুলি খারিজের আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। বুধবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের দৃষ্টি আকর্ষণসহ জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানান তাঁদের আইনজীবী। শুনানি আজ বৃহস্পতিবার।