নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছ’মাস থেকে অনূর্ধ্ব পাঁচবছরের শিশুদের রক্তাল্পতায় শীর্ষে রয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রাজ্য গুজরাত। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত’ ড্যাশবোর্ডে সারা দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পরিসংখ্যানের ওই অংশে জ্বলজ্বল করছে এই দুই নাম। কেন্দ্রই জানাচ্ছে, গুজরাতের ৮০ শতাংশেরও বেশি বাচ্চা ভুগছে অ্যানিমিয়ায়। এবিষয়ে শীর্ষে রয়েছে গুজরাত, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আর এক বিজেপি শাসিত রাজ্য—মধ্যপ্রদেশ! সেখানকার ৭৩.৫ শতাংশ (৬ মাস থেকে ৫৯ মাসের) বাচ্চাই ভুগছে রক্তাল্পতায়। পশ্চিমবঙ্গে আবার উদ্বেগজনক পরিস্থিতি হয়ে রয়েছে ১৫ বছরের কিশোরী থেকে ৪৯ বছরের মহিলাদের অ্যানিমিয়ায়। মেয়েদের মতোই একই বয়সসীমার পুরুষদের অ্যানিমিয়াতেও শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। প্রথম ক্ষেত্রে ৭১.৮ শতাংশ মহিলা এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ পুরুষই রক্তাল্পতায় ভুগছে। ঠিক কী কী কারণে অ্যানিমিয়া হতে পারে? রবিবার এন আর এস মেডিকেল কলেজে সিক নিউ বর্ন কেয়ার ইউনিটের (এসএনসিইউ) প্রধান ডাঃ অসীম মল্লিক বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে কমপক্ষে প্রথম ছ’মাস এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিং (শুধুমাত্র মায়ের দুধ) অত্যাবশ্যকীয়। তাদের রক্তাল্পতার প্রধান কারণই মায়ের দুধ পান না করানো। মাতৃদুগ্ধ পানে পর্যাপ্ত পুষ্টি হয়। কৌটোর দুধ খাওয়ানো, মায়েরা গর্ভাবস্থার সময় পুষ্টিকর খাদ্য না-খাওয়া, বাচ্চার সংক্রমণসহ আরও কিছু কারণেও বাচ্চাদের অ্যানিমিয়া হয় বলে জানান ডাঃ মল্লিক। মেডিসিনের অধ্যাপক চিকিৎসক ডাঃ রাজা ভট্টাচার্য বলেন, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ না করা একটি কারণ। এছাড়া ১৫-৪৯ বছর বয়সিদের অ্যানিমিয়ার অন্য কারণগুলি হল, বয়সের সঙ্গে কিডনির কাজকর্ম কমে আসা, টেস্টোস্টেরন ক্ষরণ কমতে থাকা ইত্যাদি। এর জন্য জরুরি সঠিক খাদ্যাভ্যাস। যোগ, হাঁটা ও ব্যায়ামে জরা প্রতিরোধ হয়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে-৫-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, গুজরাত এবং মধ্যপ্রদেশ ছাড়াও শিশুদের অ্যানিমিয়ায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক অবস্থা দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের—লাদাখ (৯৪.৪ শতাংশ) এবং দাদরা ও নগর হাভেলি (৭৭.১ শতাংশ)। শুধু এখানেই নয়, ১৫-৪৯ বয়সের মহিলা এবং ওই একই বয়সি পুরুষের অ্যানিমিয়া—দুই ক্ষেত্রেই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে লাদাখ।



