নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার শিক্ষার শীর্ষ সংস্থা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের (এনএমসি) মারাত্মক কেলেঙ্কারি ঘিরে সরগরম সারা দেশ। এমনই একটা সময় ফার্মাসিস্টদের শীর্ষ সংস্থা ফার্মাসি কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার (পিসিআই) শীর্ষকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলল সিবিআই। স্বজনপোষণ করে ফার্মাসি কাউন্সিলে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা, আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পছন্দের লোকজনকে কাউন্সিলের কর্মসমিতির সদস্য করা, ইনসপেক্টররা নেতিবাচক রিপোর্ট দেওয়া সত্ত্বেও একের পর এক ফার্মাসি কলেজকে অনুমোদন দেওয়া, ঘুষ খাওয়াসহ গুরুতর সব অভিযোগ তুলেছে সিবিআই। এনএমসি’র মতোই এই ক্ষেত্রেও কয়েকশো কোটি টাকার কেলেঙ্কারির আভাস মিলছে। ৩০ জুন পিসিআইয়ের সভাপতি ডাঃ মন্টুকুমার প্যাটেল, বিনোদকুমার তিওয়ারি ও সন্তোষকুমার ঝা—এই তিনজনের নামে এফআইআর দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ৩ জুলাই মন্টু প্যাটেলের আমেদাবাদের দুটি বাড়িতে হানা দেয় সিবিআইয়ের তদন্তকারী টিম।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকবছরে দেশজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো বহু ফার্মাসি কলেজ তৈরি হয়েছে। বারবার অভিযোগ উঠেছে, পরিকাঠামো ও লোকবল তলানিতে থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ কলেজই অনুমোদন পেয়ে যাচ্ছে। সিবিআই তাদের অভিযোগপত্রে জানিয়েছে, ২০২২ ও ২০২৩ সালে ফার্মাসি কাউন্সিলে এই কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। তারা এও জানিয়েছে, অনুমোদন দেওয়া যাবে কি যাবে না খতিয়ে দেখতে ২০২৩ সালে মাত্র ১২ দিনে ৮৭০টি ফার্মাসি কলেজের পরিদর্শনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ইনসপেক্টরদের। এই অল্প সময়ে এত বেশি সংখ্যক পরিদর্শনের ফলে কলেজপিছু কখনও কখনও বরাদ্দ হয়েছিল মাত্র ৭-৮ মিনিট!
এই বিষয়ে তৃণমূলপন্থী প্রোগ্রেসিভ ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি বিজয় বিশ্বাস বলেন, ‘এই ঘটনা আমাদের ফার্মাসিস্ট পেশার একটি কালো দিন। আমরা এই মারাত্মক অভিযোগের তদন্ত দাবি করছি। রাজ্য থেকে পিসিআইয়ের মনোনীত সদস্য দেবাশিস ভট্টাচার্যকে ফোন করা হয়েছিল। তিনি ফোন ধরেননি।’
২০২৩ সালের ১৫ মার্চ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের আন্ডার সেক্রেটারি অমিত বিশ্বাসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফার্মাসি কাউন্সিলের একাধিক কর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে সিবিআই। ২০২৩ সালের এপ্রিলে পিসিআই কলেজে গিয়ে গিয়ে পরিদর্শন বন্ধ করে দেয়। অনলাইন পরিদর্শন চালু হওয়ায় পরিকাঠামো, কাগজপত্র হাতেকলমে যাচাই করার সুযোগটাই বন্ধ হয়ে যায়। তদন্তে আরও জানা যায়, অযোধ্যার একটি ফার্মাসি কলেজকে অনুমোদন পাইয়ে দিতে বিনোদকুমার তিওয়ারি নামে এক ব্যক্তি সন্তোষকুমার ঝা নামে একজনকে প্রায় ১১ লক্ষ টাকা ঘুষ দেয়। অযোধ্যার সেই কলেজে গিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা দেখেন, সেখানে কোনও পরিকাঠামোই নেই। তারপর উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত ও রাজস্থানের ২৩টি ফার্মাসি কলেজে হানা দেয় সিবিআই। তাতে অযোধ্যার মতোই বেহাল দশা উঠে আসে। কিন্তু মন্টু জমানায় সবখানেই মিলে গিয়েছে অনুমোদন!