নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর করার আগে ইস্তফা দিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। এই ভাষাতেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর যুক্তি, যে ভোটার তালিকার ভিত্তিতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন হয়েছে, এখন সেই ভোটার তালিকায় যদি অনিয়ম থাকে, তাহলে কেন্দ্রের সরকারটাই তো ‘অবৈধ’! ফলে ইস্তফা দেওয়া উচিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের। তারপর এসআইআর হোক।
দিন যত এগচ্ছে, ততই স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল আরও দানা বাঁধছে। একাধিক প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি আঙুল তুলে দিয়েছে দেশের বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বাংলায় এসআইআর হবে না, তা আগেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার আরও একধাপ এগিয়ে মোদি সরকারের ‘বৈধতা’ নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন তিনি। এসআইআর করার আগে কেন্দ্রকে একাধিক শর্ত দিলেন তৃণমূল সেনাপতি। মঙ্গলবার দিল্লি যাওয়ার সময় কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যে ভোটার তালিকা ব্যবহৃত হয়েছিল, তার ভিত্তিতে ২৪০-এর বেশি বিজেপি সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। ওই ‘অবৈধ’ তালিকা ব্যবহার করে? আমিও এই তালিকা থেকে নির্বাচিত হয়েছি। এখন যদি অনিয়ম থাকে, তবে পুরো কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাকেই ইস্তফা দিতে হবে। বিজেপি শুরু করুক, আমরা সবাই ইস্তফা দেব। লোকসভা ভেঙে দিন, তারপর সারা দেশে এসআইআর চালান। তারপর নতুন নির্বাচন হোক। অভিষেকের আরও বক্তব্য, বিজেপি সারাক্ষণ সততা, গণতন্ত্র, এবং ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা বলেন, তাই আমি বিজেপি এবং এনডিএ’কে চ্যালেঞ্জ করছি—ওরা ইস্তফা শুরু করুক। তারপর তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি এবং অন্যান্য বিরোধী দলও ইস্তফা দেবে। একইসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু করা এবং এফআইআর দায়ের করার পক্ষে সওয়াল করেছেন অভিষেক।
বাংলার একজন নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায়, তাহলে লক্ষাধিক মানুষকে নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর ঘেরাও অভিযান হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিষেক। এখানে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের প্রত্যয়ী সুর, বাংলার নাগরিকদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিচ্ছে বিজেপি। এখানে যদি প্রতিটি যোগ্য নাগরিক ভোট দিতে পারেন, বিজেপি আর কোনওদিন ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না।
একই এপিক নম্বরে একাধিক ব্যক্তির ভোটার কার্ড রয়েছে, এই তথ্য সর্বপ্রথম গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তৃণমূলের সভায় তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সদ্য কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ওই সম্পর্কিত তথ্য হাজির করেছেন। এই প্রসঙ্গে অভিষেকের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন যদি সত্যিই নিরপেক্ষ হয়, তবে সাংসদদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক।
সোমবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর অভিযান করে বিরোধীরা। সেখানে যে ঘটনা ঘটেছে, তা গোটা দেশ দেখেছে। এই বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, মিছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল। সেখানে হিংসার কোনও জায়গা ছিল না। লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে তিনশোও বেশি সাংসদ ছিলেন। দিল্লি পুলিসের বর্বরতার সম্পূর্ণ চিত্র ফুটে উঠেছে। কেন্দ্র-নিয়ন্ত্রিত দিল্লি পুলিস মহিলা, আদিবাসী এবং তফসিলি জাতি/উপজাতির প্রতিনিধিদের হয়রানি করেছিল।



