Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপি রাজ্যে আটকানো হচ্ছে বাংলার সংখ্যালঘু ভোটারদের! ওড়িশায় আটক হরিশ্চন্দ্রপুরের ১৩ জন শ্রমিক

সংখ্যালঘু ভোটারদের আটকাতে নয়া চক্রান্ত! বিজেপি-শাসিত ওড়িশার গঞ্জাম জেলার বেল্লাকুণ্ঠা থেকে ভোট দেওয়ার জন্য দু-একদিনের মধ্যে হরিশ্চন্দ্রপুরের বাড়িতে ফেরার কথা ছিল ১৩ জন বাংলাভাষী সংখ্যালঘু শ্রমিকের।

বিজেপি রাজ্যে আটকানো হচ্ছে  বাংলার সংখ্যালঘু ভোটারদের! ওড়িশায় আটক হরিশ্চন্দ্রপুরের ১৩ জন শ্রমিক
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর:  সংখ্যালঘু ভোটারদের আটকাতে নয়া চক্রান্ত! বিজেপি-শাসিত ওড়িশার গঞ্জাম জেলার বেল্লাকুণ্ঠা থেকে ভোট দেওয়ার জন্য দু-একদিনের মধ্যে হরিশ্চন্দ্রপুরের বাড়িতে ফেরার কথা ছিল ১৩ জন বাংলাভাষী সংখ্যালঘু শ্রমিকের। তাঁদের ট্রেনের টিকিটও কাটা হয়ে গিয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে ওই শ্রমিকদের আটক করার অভিযোগ উঠল সেখানকার পুলিশের বিরুদ্ধে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বাংলায় কথা বলায় ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করা হয়েছে বলা হলেও আসলে বিজেপির চক্রান্তে সংখ্যালঘু ভোটারদের আটকে দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা বাংলায় এসে ভোট দিতে না পারেন।

Advertisement

ওই পরিযায়ী শ্রমিকরা বেল্লাকুণ্ঠায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ তাঁদের বাড়িতে হানা দিয়ে পরিচয়পত্র দেখতে চায়। তাঁরা নথি দেখালেও ফের রাতে এসে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। আটক সাজাউল হকের ভাই আরজাউল হক বলেন, পুলিশ প্রথমে আধার ও ভোটার কার্ড দেখতে চায়। বৈধ কার্ড দেখানো সত্ত্বেও মাঝরাতে এসে তুলে নিয়ে গিয়েছে। কোনোরকমে পালিয়ে দূরে লুকিয়ে রয়েছি।  আরজাউলের অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার বেড়েছে। মোবাইল কেড়ে নিয়েছে পুলিশ। ফলে পরিবারের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করতেও পারছেন না। আটক সোহেল আক্তারের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন বলেন, ভোটের জন্য স্বামীর বাড়ি ফেরার কথা ছিল। মঙ্গলবার রাতে সেখানকার পুলিশ বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ফোন কেড়ে নিয়েছে।
হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের যুব তৃণমূল সভাপতি মনিরুল ইসলামের অভিযোগ, সংখ্যালঘুরা যাতে ভোট দিতে না আসতে পারেন, সেজন্য পরিকল্পনামাফিক এসব করা হচ্ছে। হরিশ্চন্দ্রপুর থানা ও জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি।  এই ইস্যুতে এদিন হরিশ্চন্দ্রপুরের প্রার্থী রতন দাসের সমর্থনে জনসভায় যাওয়ার পথে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এদিন দুপুরে বরুই হাইস্কুল সংলগ্ন ময়দানে জনসভা করতে আসেন শমীক। সেখান থেকে যাচ্ছিলেন হরিশ্চন্দ্রপুর। তখনই বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।
হরিশ্চন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে এই ঘটনায় উত্তেজনা সামাল দিতে পৌঁছায় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। তৃণমূলের অভিযোগ, পুলিশকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বিজেপি নেতারা!বিক্ষোভকারী জেলা তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, বাংলা ভাষায় কথা বলায় ১৩ জন শ্রমিককে পুলিশ আটক করেছে। অথচ, এবিষয়ে বিজেপি নেতাদের মুখে কোনো কথা নেই।  উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেছেন, ‘বাংলাদেশি’ হয়ে থাকলে কেউ ছাড় পাবে না। পুলিশ কেন তাদের আটক করেছে, খোঁজ নিয়ে দেখছি। অন্যদিকে, হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সুমিতকুমার ঘোষ বলেন, বেল্লাকুণ্ঠা থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ