নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলায় স্বামীহারা মহিলাদের অপমান করছে বিজেপি। রবিবার এই মর্মেই তোপ দাগল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রীকে ‘প্রচারজীবী’ এবং বিজেপিকে ‘বদ জুবান পার্টি’ অর্থাৎ কুকথা বলার দল বলেও কটাক্ষ করলেন মহিলা কংগ্রেসের প্রধান অলকা লাম্বা। কংগ্রেসের সুরেই বিজেপি সাংসদের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেছেন, সিঁদুরের অমর্যাদা কোনও নারী সহ্য করবে না। সমবেত প্রতিবাদে গর্জে উঠবে সকলে। নরেন্দ্র মোদি যখন শিরায় শিরায় সিঁদুরের কথা বলছেন, তখন তাঁর দলের সাংসদই সিঁদুরের অপমান করছেন। বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অপারেশন সিন্দুরের সাফল্য তুলে ধরেছেন সর্বদলের প্রতিনিধিরা। অথচ বিজেপি সাংসদ নারীদের যেভাবে অমর্যাদা করলেন, তার তীব্র ধিক্কার জানাই। তাঁকে প্রশ্ন করি, পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হানার সময় ঘটনাস্থলে যদি আপনি থাকতেন বা আপনার পরিবারের কেউ থাকতেন, তাহলে কি করতেন? সিঁদুর নিয়ে রাজনীতি করবেন না, এটাই প্রত্যাশা বিজেপি নেতৃত্বের কাছে।
সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানকে প্রত্যাঘাতে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সিন্দুরে’র সাফল্য প্রচার করতে গিয়ে বিজেপি নির্লজ্জ রাজনীতি করছে। রেলের টিকিটে মোদির ছবি, অপারেশন সিন্দুরের প্রচারে হোর্ডিংয়েও বায়ুসেনার পোশাকে প্রধানমন্ত্রীর ছবি সামনে আনছে বলে তোপ দাগল কংগ্রেস। গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে উঠল সেনাকে অপমানের অভিযোগ। ‘সেনা যত না সাহসী, তার চেয়ে অনেক বেশি সাহস দেখানোর ক্ষমতা রাখে ব্যবসায়ীরা।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পুরনো মন্তব্যের ভিডিও তুলে ধরে আক্রমণ শানাল কংগ্রেস। অন্য ভিডিওতে হরিয়ানার সাংসদ রামচন্দ্র জাগড়াকে বলতে শোনা যাচ্ছে, পহেলগাঁওয়ে যেসব মহিলাদের সামনে তাদের স্বামীকে গুলি করে জঙ্গিরা মারল, তাদের মধ্যে বীরাঙ্গনা ভাব ছিল না। সেটা থাকলে আর তাদের স্বামীদের মরতে হতো না। কংগ্রেসের তুলে ধরা ভিডিওতে মধ্যপ্রদেশের উপ মুখ্যমন্ত্রী জগদীশ দেবড়াকে বলতে শোনা যায়, অপারেশন সিন্দুরের পর দেশের সেনা মোদিজির কাছে নতমস্তক। পাকিস্তানকে যেভাবে নাস্তানাবুদ করে দেওয়া হয়েছে, তাতে পুরো দেশও নতমস্তক। মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী বিজয় শাহ সংখ্যালঘু সেনা অফিসার সোফিয়া কুরেশিকে পাকিস্তানি জঙ্গিদের বোন বলে সম্বোধন করেছেন।
কংগ্রেসের প্রশ্ন, কেন এভাবে অপমান? কেন দল তথা রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করা হচ্ছে না ওই বিজেপি নেতাদের? কেন চুপ মোদি? গোটা দেশের কাছে ক্ষমা চান প্রধানমন্ত্রী। কংগ্রেস নেত্রী অলকা লাম্বার সওয়াল, প্রধানমন্ত্রী কেন কাশ্মীরের ঘটনায় নিহত এবং আহতের পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন না? রেডিওতে নিজের মন কি বাত বলছেন, কিন্তু মানুষের মন কি বাত শুনছেন না মোদি।