কাজল মণ্ডল, ইসলামপুর: সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গোয়ালপোখর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী হতে পারেন দলেরই জেলা কমিটির সম্পাদক গোলাম সরওয়ার। প্রার্থী ঘোষণার পর বিক্ষুব্ধ সরওয়ার সমাজমাধ্যমে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলের চর্চায় উঠে এসেছেন।
বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূলের প্রার্থী গোলাম রব্বানির ভাই গোলাম সরওয়ার বিজেপি করেন। গত বিধানসভা ভোটে গোয়ালপোখরে দাদা রব্বানির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেন সরওয়ার। সেবার ৩১ হাজার ভোট পেয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী সরওয়ার। একসময় সংখ্যালঘু মোর্চার রাজ্য কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। বর্তমানে জেলা কমিটির সম্পাদক পদে আছেন। গত ৫ বছরে গোয়ালপোখরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিকবার সরব হয়েছিলেন সরওয়ার। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের জন্য লড়াই করেছেন।
রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ মনে করেছিল, এবারও সরওয়ার টিকিট পাবেন। কিন্তু তা হয়নি। সরজিৎ বিশ্বাসকে বিজেপি প্রার্থী করেছে। এতেই চটেছেন সরওয়ার।
সম্প্রতি ভিক্টরের সঙ্গে একটি ইফতার পার্টিতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সেই ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সরওয়ারের দলবদলের জল্পনা শুরু হয়। এবার সমাজ মাধ্যমে দলের প্রার্থী সরজিৎকে তীব্র ভাষায় আক্রমণও করেছেন সরওয়ার।
বিজেপির জেলা সম্পাদক সরওয়ারের অভিযোগ, দল যোগ্য ব্যক্তিকে প্রার্থী করেনি। গত ৫ বছরে দলের কর্মসূচিতে প্রার্থীকে দেখা যায়নি। দল কি জেতার জন্য প্রার্থী দিয়েছে? দলের লোকেদের কথা ভাবা হয়নি। প্রার্থী হওয়ার পর সরজিত্ আমার সঙ্গে যোগাযোগও করেনি। দলও যোগাযোগ করেনি। এবিষয়ে সরজিৎ বলেন, প্রার্থী হওয়ার পর আমি তাঁর বাড়ি গিয়েছিলাম। ফোনও করেছিলাম। কিন্তু যোগাযোগ হয়নি।
একধাপ এগিয়ে বিজেপি জেলা সম্পাদকের হুঁশিয়ারি, আমি প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ঘুরছি। মানুষের মতামত নিচ্ছি। মানুষ চাইলে এবার নির্দলে দাঁড়াতে পারি। বিজেপি প্রার্থী বলেন, সরওয়ার যা বলেছেন, তা ওনার ব্যক্তিগত বিষয়। দল এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।
রাজনৈতিক মহলের আলোচনা, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপির একজন সংখ্যালঘু মুখ দল ছাড়লে বা নির্দল হয়ে দাঁড়ালে ভোটে প্রভাব পড়তে পারে। যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা কিষান মোর্চার রাজ্য কমিটির সম্পাদক আনন্দ মণ্ডল বলেন, এতে দলে কোনো প্রভাব পড়বে না। দলীয় নেতৃত্ব সমস্ত কিছুই দেখছে। গোলাম সরওয়ারের বিষয়ে দল পদক্ষেপ করবে।