নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটার তালিকার এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিউ) নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত দেশের রাজনীতি। বিরোধিতায় সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। এই আবহে বিজেপিকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর তোপ, ‘দেশের নাগরিক কে হবেন, তা বিজেপি ঠিক করে দিতে পারে না। ওরা সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে।’
মঙ্গলবার তৃণমূলের সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় পদাধিকারীদের নিয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সাংগঠনিক বৈঠক করেন অভিষেক। সেখানে এসআইআর নিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলার নির্দেশ দেন তিনি। তৃণমূলের সেনাপতি বলেছেন, ‘আজকে পরিচয়পত্র সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজ দেখতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরাই তাঁদের বাবা-মায়ের জন্মের শংসাপত্র দেখাতে পারবেন না। বিজেপির রাজ্য সভাপতিও পারবেন না তাঁর বাবা-মায়ের জন্মের শংসাপত্র দেখাতে। আসলে এসআইআরের নাম করে বিজেপিকে বাড়তি সুযোগ করে দিতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। নির্লজ্জতার সব মাপকাঠি ছাড়িয়ে গিয়েছে। পিছনের দরজা দিয়ে এনআরসি বাস্তবায়নেরও চেষ্টা চলছে। বাংলার বাসিন্দাদের পাঠানো হচ্ছে এনআরসি’র নোটিস।’ তাই অভিষেকের চ্যালেঞ্জ, ‘দু’জন প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দিয়ে দেখাক, তারপর বুঝে নেব।’
নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে ভোটারের তথ্য যাচাই করছেন কি না, বিএলওরা কোথাও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ কিংবা কারচুপি করছেন কি না, এসব দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে কর্মীদের। কোথাও কোনও অসঙ্গতি দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট বিএলওর নাম দলের জেলাস্তর থেকে রিপোর্ট আকারে রাজ্যে আসবে। তারপর বিষয়টি দেখে নেওয়া হবে।
এদিকে, বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের উপর যে আক্রমণ হচ্ছে, তা নিয়েও সরব হয়েছেন লোকসভায় তৃণমূলের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দলনেতা। তাঁর বক্তব্য, ‘একটা সময় রাষ্ট্রপতির মুখেও তো জয় বাংলা স্লোগান শোনা গিয়েছিল। তাহলে তিনিও কি বাংলাদেশি? জাতীয় সংগীত লেখা হয়েছে বাংলা ভাষায়। আজকে সেই বাংলা ভাষাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করছেন বিজেপি নেতারা। বাংলার মানুষকে ঘৃণার চোখে দেখছেন ওঁরা।’ তাই অভিষেকের নির্দেশ, বিজেপি নেতাদের দেখলেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিন। কারণ, মাতৃভাষাকে অপমান করা হলেও বাংলার বিজেপি নেতাদের কোনও প্রতিবাদ নেই। - নিজস্ব চিত্র