নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও বারাকপুর: মুখেই হম্বিতম্বি। সোশ্যাল মিডিয়ায় লাফালাফিই সার। কার্যক্ষেত্রে উধাও বিজেপি। রাস্তায় দেখা পাওয়া গেল না কোনও এজেন্টের। মঙ্গলবার এসআইআর শুরু হতেই সামনে বেরিয়ে এল বিরোধীদের কঙ্কালসার অবস্থা। যা নিয়ে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। বারাসত সাংগঠনিক জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বিএলওদের সঙ্গে দেখা মিলল না বিজেপি এজেন্টদের। বামেদেরও একই অবস্থা। বারাকপুরের ক্ষেত্রে চিত্রটাও একইরকম। বিরোধীদের দাবি, সরকারি নিয়ম না মেনে তৃণমূল এজেন্ট দিয়েছে। তবে বুধবার থেকে সব দলের এজেন্ট থাকবে।
মঙ্গলবার শুরু হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া। বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন কমিশনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের সঙ্গে প্রতিটি বুথ এলাকায় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি থাকার কথা। কিন্তু প্রথম দিনেই বিজেপির অনুপস্থিতিতে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বারাসত, হাবড়া, অশোকনগর, দেগঙ্গা থেকে শুরু করে সাংগঠনিক জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বিরোধীদের দেখা যায়নি। তৃণমূলের কটাক্ষ, ভোটের সময় প্রচারে সরব থাকলেও বাস্তব কাজের সময়ে বিজেপি উধাও। এই অনুপস্থিতি সংগঠনের দুর্বলতাকেই প্রকাশ করছে। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধি না থাকা বিজেপির জন্য অস্বস্তিকর বার্তা বহন করছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি না থাকলেও প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চলছে। বিএলওরা নিজেদের কাজ করে যাচ্ছেন।
বারাসত পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের রামকৃষ্ণপুরের ২০৩ নম্বর বুথের বিএলও সুকুমার সর্দার। মঙ্গলবার আনুমানিক সকাল ৮টা থেকে তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম দিয়ে বুঝিয়ে দেন কীভাবে পূরণ করতে হবে। তখন তার সঙ্গে ছিলেন শুধু তৃণমূলের বিএলএ ২। একইছবি বারাসতের হরিতলা, অশ্বিনী পল্লি থেকে হাবড়া, অশোকনগরে। বারাসতের তৃণমূল নেতা অশনি মুখোপাধ্যায় বলেন, বিরোধীদের সংগঠন যে তলানিতে তা আবার প্রমাণিত হল। আমরা দলীয়ভাবে ক্যাম্প করেছি। তাতেও মানুষ আসছেন। বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি রাজীব পোদ্দারের যুক্তি, আমরা বিএলএদের তালিকা জমা দিয়েছি। টেকনিক্যাল কারণে সমস্যা হয়েছে। সিপিএম নেতা আহমেদ আলি খানের যুক্তি, আমরা নিয়ম মেনে বিএলএ নিয়োগ করি। তৃণমূল তা করে না। তাই ওদের বেশি দেখা যাচ্ছে।
পাশাপাশি বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের ফর্ম দিলেন বিএলওরা। তিনদিন পরে সেই ফর্ম পূরণ করে নিয়ে যাবেন তাঁরা। নবনিযুক্ত মহকুমা শাসক সৌরভ চট্টোপাধ্যায় খোঁজ নিয়ে দেখেন, প্রতিটি বুথের বিএলওরা ঠিকমতো নেমেছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন কি না? বারাকপুরের প্রশাসনিক ভবন থেকে গোটা প্রক্রিয়া মনিটর করেছি।