নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও হাওড়া: পুজোর মধ্যেই হাওড়ার সন্ধ্যা বাজারের কাছে গুলিতে ঝাঁঝরা হলেন বিহারের গোপালগঞ্জের কুখ্যাত গ্যাংস্টার তথা আরজেডি কর্মী বলে পরিচিত সুরেশ যাদব (৫৫)। গোপালগঞ্জে একাধিক খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সুরেশ আত্মীয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হাওড়ার বনবিহারী বোস লেনে এসেছিলেন। চা খেয়ে ফেরার পথে অষ্টমীর সন্ধ্যায় বাইকে চড়ে এসে দুই দুষ্কৃতী তাঁকে গুলি করে পালায়। ভাড়াটে খুনি দিয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। গোপালগঞ্জের এক পঞ্চায়েতের মুখিয়া অমরজিৎ যাদব খুনের মূল অভিযুক্ত সুরেশকে নিকেশের পিছনে বিহারের অপরাধীদের জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসছে পুলিশের কাছে। এমনকী অভিযুক্ত শার্প শ্যুটারও একসময়ের সুরেশের গ্যাং মেম্বার ছিল বলে জানা যাচ্ছে। অভিযুক্তদের খোঁজে হাওড়া সিটি পুলিশের পাশাপাশি আলাদা করে তদন্ত করছে বিহার পুলিশও।
হাওড়া সিটি পুলিশ সূত্রে খবর, ৯০’র দশকে বিহারে ত্রাস সুরেশ গোপালগঞ্জে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছিলেন। শুধু খুনই নয়, অপহরণ, তোলাবাজি, জমি দখলের মতো অপরাধের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ১৯৯৫ সালে গোপালগঞ্জে কংগ্রেসের প্রার্থী মুন্না সিং খুন হওয়ায় ওই কেন্দ্রের নির্বাচন আটকে যায়। শুধু মুন্না সিং নয়, তদানীন্তন সমতা পার্টির স্থানীয় নেতা সহ তিন কর্মীকে খুনের ঘটনাতেও অভিযুক্ত ছিলেন সুরেশ। সবমিলিয়ে ২৪টি খুনের অভিযোগ রয়েছে এই গ্যাংস্টারের বিরুদ্ধে। আট বছর জেলের মেয়াদ কাটিয়ে আরজেডিতে যোগ দেন সুরেশ। পুলিশ জেনেছে, সুরেশের গ্যাংয়ে কয়েকশো ছেলে রয়েছে। এর মধ্যে আবার কয়েকজন শার্প শ্যুটারও। ২০২৩ সালে মুখিয়া অমরজিতের দলবল তাঁর উপর গুলি চালালে কোনওক্রমে প্রাণে বাঁচেন তিনি। এবারও মুখিয়ার দলবল এই ঘটনায় যুক্ত কি না, সেটাই দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তে উঠে আসছে , ২৩’ সালে শ্যুটআউটের ঘটনার পর সুরেশ বিহারে থাকছিলেন না। বিভিন্ন রাজ্যে গা-ঢাকা দিচ্ছিলেন। খড়দহের ঘোষবাগানে একটি ফ্ল্যাট কিনে থাকছিলেন নাম বদলে। হাওড়ার বনবিহারী বোস লেনে আত্মীয়ের বাড়িতে অনুষ্ঠানের জন্য স্ত্রী রমাবতীকে নিয়ে এসেছিলেন ২৮ সেপ্টেম্বর। অষ্টমীর দিন রাত সোয়া ন’টা নাগাদ বনবিহারী বোস লেনের একটি দোকানে চা খেয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। পিছন থেকে দুটি বাইক এসে তাঁর বুকে পরপর গুলি করে। এরপর শূন্যে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে ভিড়ের মধ্যে মিশে যায়।
তদন্তে নেমে হাওড়া সিটি পুলিশ জেনেছে, হাওড়ায় সুরেশের ডেরা খুঁজে তাঁকে নিকেশের জন্য বিহার থেকে এসেছিল দুই ভাড়াটে খুনি। শালিমার এলাকায় এসে তারা স্থানীয় কয়েকজনের সাহায্যে জেনে নেয়, সুরেশের হাওড়ার ঠিকানা। সপ্তমী থেকে বনবিহারী বোস লেন এলাকায় সুরেশের সন্ধান শুরু করে ওই দুই ভাড়াটে খুনি। অষ্টমীর দিন খুঁজে পাওয়া মাত্রই সুরেশকে খতম করে তারা। পাশাপাশি জানা যাচ্ছে, যে দুই ভাড়াটে খুনি এসেছিল, তাদের মধ্যে একজন সুরেশের গ্যাংয়ের প্রাক্তন সদস্য। গোলমালের জেরে সে গ্যাং ছেড়ে দেয়। সুরেশ খুনের ঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসছে। এই ঘটনায় হাওড়া সিটি পুলিশ ও বিহার পুলিশ একাধিকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে খবর।