পাটনা: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ভোটার তালিকার স্পেশ্যাল ইন্টেনসিভ রিভিসন (এসআইআর) ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে বিহারে। তার আঁচ পড়েছে রাজ্যের বিধানসভার অধিবেশনেও। বুধবার এই ইস্যুতে বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবের সঙ্গে তীব্র বিতণ্ডায় জড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। এর জেরে সভায় জোর হট্টগোল শুরু হয়। শেষপর্যন্ত সভা আধঘণ্টার জন্য মুলতুবি করে দেন অধ্যক্ষ নন্দ কিশোর যাদব।
এসআইআরের ফলে কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই কাজের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। মঙ্গলবারও বিষয়টি নিয়ে বিধানসভা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। এসআইআরের প্রতিবাদে এদিন কালো জামা পরে বিধানসভায় আসেন তেজস্বী। ওই ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে আরজেডি নেতাকে অনুমতি দেন অধ্যক্ষ। শুরুতেই তেজস্বী বলেন, ‘আমরা এসআইআরের বিরোধী নই। কিন্তু কমিশন যে পদ্ধতিতে এটা করছে তা আপত্তিজনক।’ তেজস্বীর প্রশ্ন, এত বিলম্বে কেন এই সংশোধনের কাজ শুরু হল? তাঁর অভিযোগ, ‘মাত্র ২-৩ শতাংশ ভোটার কমিশনকে প্রয়োজনীয় নথি দিতে পারবেন। তাহলে বাকি ভোটারদের কী হবে?’ কটাক্ষের সুরে তেজস্বী আরও বলেন, কমিশন কি এটা বলতে চাইছে, নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রী আর নীতীশকে মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছেন জাল ভোটাররা! এতে উত্তেজিত হয়ে তেজস্বীর ভাষণের মাঝেই পাল্টা জবাব দিতে ওঠেন নীতীশ। তিনি বলেন, ‘আপনি এসব বোঝেন না। অধিবেশনের মাত্র তিনদিন বাকি আছে, কাজের কথা হোক।’ তেজস্বীর বাবা লালুপ্রসাদ যাদবের প্রসঙ্গ তুলেও খোঁচা দেন নীতীশ। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন কিছুই কাজ করেননি লালু। দলের বিধায়করা নীতীশকে থামানোর চেষ্টা করেন। এরইমধ্যে চিৎকার জুড়ে দেন উপ মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক বিজয় কুমার সিংহ। তা উত্তেজনার মাত্রা আরও বাড়িয়ে তোলে। শেষপর্যন্ত অধ্যক্ষ সভা মুলতুবি করেন। পরে অধিবেশন শুরু হলেও কয়েক মিনিটের মধ্যে ওয়াকআউট করে বিরোধীরা।