বাংলা-১ : অসম-১
বাংলা-১ : অসম-১
(আকাশ) (ঋতুরাজ-পেনাল্টি)
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গেরুয়া শিবিরের মুখেই মারিতং জগত। ক্ষমতায় আসার পর উন্নয়নের ফিরিস্তি প্রকাশে মোদি সরকার ক্লান্তিহীন। ক্রীড়াজগতেও ফাঁপা প্রতিশ্রুতির রমরমা। শাসক দলের আশীর্বাদ নিয়েই ফেডারেশন সভাপতির চেয়ারে বসেন কল্যাণ চৌবে। তাঁর আমলে ফুটবল লাটে ওঠার জোগাড়। সন্তোষ ট্রফির মতো ঐতিহ্যবাহী জাতীয় টুর্নামেন্ট ঘিরেও রাশি রাশি অভিযোগ। শুক্রবার অসমে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ল বাংলা দল। স্রেফ গেরুয়া শিবিরের রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে নির্ধারিত সময়ে মাঠে পৌঁছাতে পারেনি সঞ্জয় সেনের দল। প্রায় ৪০ মিনিট দেরিতে শুরু হয় ম্যাচ। এমন ঘটনায় স্তম্ভিত ফুটবল মহল। ম্যাচে অসমের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলা। একমাত্র গোলদাতা আকাশ হেমব্রম। ৫ পয়েন্ট বাংলার ১১। গ্রুপ শীর্ষে থেকেই কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছেছে বঙ্গ ব্রিগেড। তবে ফুটবল ছাপিয়েও মাঠের বাইরের ঘটনায় তীব্র আলোড়ন ফুটবল মহলে।
ডিব্রুগড়ে বাংলার টিম হোটেল থেকে প্রায় দু’ঘণ্টা দূরত্বে ঢাকুয়াখানা স্টেডিয়াম। কিক অফের সময় ছিল দুপুর দুটোয়। জানা গিয়েছে, সকাল পৌনে দশটা নাগাদ হোটেল ছেড়ে মাঠের দিকে রওনা দেয় টিম বাস। মাঝরাস্তায় বিপত্তির শুরু। আসলে রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে অসমে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মিছিলের কারণে রাস্তা বন্ধ। প্রথমে কোনও পাইলট কারও জোটেনি বাংলার। যানজটে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় কোচ, ফুটবলারদের। শেষপর্যন্ত অনেক দেরিতে টনক নড়ে আয়োজকদের। পাইলট কার পাঠিয়ে কোনওরকমে স্টেডিয়ামে পৌঁছে দেওয়া হয় দলকে। পর্যাপ্ত ওয়ার্ম-আপ ছাড়াই মাঠে নামতে হয় দলকে। এমনকী, সময় বাঁচাতে ১২ মিনিট বিরতির পর শুরু হয় দ্বিতীয়ার্ধ। ম্যাচের আগে জার্নিতে কার্যত বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে বাংলা শিবির। আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্তের মন্তব্য, ‘দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। বাংলা দল চরম অব্যবস্থার শিকার। এমনটা কোনওমতেই কাম্য নয়।’ সঞ্জয় সেন বললেন, ‘প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পা মুড়ে বসে থাকার পর ফুটবল খেলা সত্যিই কঠিন।’