Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চোর অপবাদ, বেঙ্গালুরুতে বাঙালি দম্পতিকে বেধড়ক পেটাল পুলিশ

চোর অপবাদ দিয়ে বাঙালি দম্পতিকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল বেঙ্গালুরু পুলিশের বিরুদ্ধে। বাংলায় কথা বলায় তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা সেঁটে দেওয়া হয়।

চোর অপবাদ, বেঙ্গালুরুতে বাঙালি দম্পতিকে বেধড়ক পেটাল পুলিশ
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: চোর অপবাদ দিয়ে বাঙালি দম্পতিকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল বেঙ্গালুরু পুলিশের বিরুদ্ধে। বাংলায় কথা বলায় তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা সেঁটে দেওয়া হয়। বেঙ্গালুরুতে একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিচারিকার কাজ করতেন নদীয়ার সুন্দরী বিবি। বর্তমানে ওই দম্পতি থানা থেকে ছাড়া পেলেও পেটানোর যন্ত্রণা রয়েছে শরীরজুড়ে। কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের তরফ থেকে ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

Advertisement

সুন্দরী বিবির বাপেরবাড়ি কালীগঞ্জ থানার বড় চাঁদঘর এলাকায়। শ্বশুরবাড়ি পলাশীপাড়া থানার বার্নিয়া এলাকায়। কয়েক মাসে আগে ওই দম্পতি বেঙ্গালুরুতে কাজে যান। সেখানে বালিগিরি এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টে হাউসকিপিংয়ের কাজ শুরু করেন সুন্দরী। তাঁর স্বামী ড্রাইভারের কাজ করেন।
গত ৩০অক্টোবর সকালে সুন্দরী ফ্ল্যাটে কাজে যান। সেই ফ্ল্যাটের ব্যালকনিতে ১০০টাকার একটি নোট পড়েছিল। মেঝে পরিষ্কারের সময় পড়ে থাকতে দেখে সেটি তুলে নেন। তখনই ওই ফ্ল্যাটের মালিক চোর সন্দেহে সুন্দরীর দিকে তেড়ে যান। সেইসঙ্গে ‘বাংলাদেশি’ বলে অপমান করতে থাকেন। তারপর সুন্দরীকে ওই দম্পতি বার্তুল থানায় নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে সুন্দরীর বিরুদ্ধে হীরের গয়না চুরির অভিযোগ আনেন ওই ফ্ল্যাটের দম্পতি। তারপর বার্তুল থানার পুলিশ সুন্দরীকে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। টানা তিন ঘণ্টা আটকে রাখার পর সুন্দরীর স্বামীকে ডেকে পাঠায় পুলিশ। থানায় তাঁকেও মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়, পুলিশ তাঁদের বাংলাদেশি হিসেবে সন্দেহ করে। বিষয়টি জানার পর বেঙ্গালুরুতে বাংলা পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের সঙ্গে ওই দম্পতির পরিচিতরা যোগাযোগ করেন। সেই মানবাধিকার সংগঠনের তরফ থেকে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে ওই মহিলাকে ‘মেডিকো-লিগ্যাল টেস্ট’ করানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সংগঠনের কর্তা আর কালিমুল্লা বলেন, বিষয়টি জানার পর আমরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমরা কমিশনে এই নিয়ে অভিযোগ করেছি।  সুন্দরী বলেন, আমি ওই অ্যাপার্টমেন্টে তিন মাস কাজ করছি। আমাকে যখন পুলিশ আমাকে মারছিল, বারবার বাংলাদেশি বলছিল। আমি চুরি করিনি। একটা ঘরে আটকে রেখে আমাকে মারধর করছিল। ঘরে সাতজন পুলিশ ছিল। তার মধ্যে তিনজন আমাকে খুব মেরেছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ