বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: মাংস উৎপাদনে ইতিমধ্যেই স্বনির্ভরতা পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যবাসীর চাহিদা মিটিয়ে ভিন রাজ্যেও মাংস জোগান দেয় বাংলা। ডিম উৎপাদনেও অনেকটাই এগিয়েছে রাজ্য। এবার তাদের নজর দুধ উৎপাদনে জোয়ার আনা। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হল আইভিএফ পদ্ধতিতে গোরুর প্রসব। বেশি পরিমাণে দুধ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বকনা বাছুর পেতে এবার ল্যাবরেটরিতে শুরু হয়েছে টেস্টটিউব বেবি। ইতিমধ্যেই তাতে চমৎকার সাফল্য মিলেছে বলে
দাবি করেছেন রাজ্য প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের কর্তারা। আগামী দিনে সারোগেট মা গাভীর সংখ্যা বাড়ানোর দিকে ঝুঁকতে চলেছে প্রশাসন।
দুধের জোগান বাড়াতে গোরুর কৃত্রিম প্রজনন এদেশের অনেক পুরনো কৌশল। পশ্চিমবঙ্গ গোসম্পদ বিকাশ সংস্থার কর্তাদের কথায়, আমাদের মূল চাহিদা দুটি: এক, ষাঁড়ের তুলনায় অনেক বেশি গাই গোরু বা গাভীর জোগান বাড়ানো। দুই, গাভী যাতে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বেশি পরিমাণে দুধ দেয়, তা সুনিশ্চিত করা। রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে দু’বছর যাবৎ ক্রোমোজোম বিশ্লেষণে জোর দেওয়া হয়েছে, যেখানে কৃত্রিম প্রজননে শুধুমাত্র বকনা বাছুরেরই জন্ম হবে। ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়ায় ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত সাফল্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করেছেন দপ্তরের কর্তারা। তাঁদের কথায়, গোসম্পদে সমৃদ্ধ দেশগুলিতে বর্তমানে এই ক্রোমোজম ভিত্তিক কৃত্রিম প্রজননে জোর দেওয়া হচ্ছে, যেখানে বকনা বাছুরের উৎপাদন বাড়ছে। উত্তরাখণ্ড, মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্য থেকে ‘ওয়াই’ ক্রোমোজম ছাড়া সিমেন আনা হচ্ছে, যার প্রয়োগে এই সাফল্য আসছে রাজ্যে, দাবি করেছেন দপ্তরের কর্তারা। তবে এখন আর অন্য রাজ্যের উপর যাতে নির্ভর করতে না-হয়, তার উদ্যোগও শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছেন গোসম্পদ বিকাশ দপ্তরের কর্তারা। তাঁদের কথায়, এই ক্রোমোজম বিশ্লেষণ ও সেই মতো সিমেন পেতে আমেরিকা ও ফ্রান্স থেকে আনা হচ্ছে মেশিন ও প্রযুক্তি। পরিকাঠামো গড়া হবে হরিণঘাটায়। তা চালু হলে শুধুমাত্র বকনা ভ্রূণের জন্য প্রয়োজনীয় সিমেনের জোগান মিলবে অনেক কম খরচে। অতি উন্নত প্রজাতির সিমেন ব্যবহার করার ফলে গাভীর দুধ উৎপাদন ক্ষমতা অনেকটা বাড়বে বলে দাবি বিভাগীয় কর্তাদের।
এর পরেও কেন টেস্টটিউব
বেবির প্রয়োজন হল? রাজ্য গোসম্পদ বিকাশ সংস্থার সিইও গৌরীশঙ্কর কোনারের কথায়, চিরাচরিত কৃত্রিম প্রজননে সবচেয়ে বেশি দুধ পেতে সাতটি প্রজন্ম অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফে ‘এলিট বুল’ বা অতি উন্নত প্রজাতির ষাঁড় মারফত প্রজননে গাভীর
প্রথম প্রজন্মেই সবচেয়ে বেশি দুধ পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি এই প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট সিমেন থেকে একই সঙ্গে একের বেশি গাই গোরু পাওয়া সম্ভব। সাধারণ কৃত্রিম প্রজননে তা সম্ভব নয়। সরকারি পরিকাঠামোয় ইতিমধ্যেই ৭৪৫টি ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরিতে আইভিএফ করা হয়েছে। তা থেকে ভ্রূণ তৈরিতে ৩০ শতাংশ সাফল্য মিলেছে। ইতিমধ্যেই ৫৭টি গাভী বা টেস্টটিউব বেবি জন্ম নিয়েছে। তাদের কয়েকটিকে পাঠানো হয়েছে ভিন রাজ্যেও। গৌরীশঙ্করবাবু বলেন, আমরা এরপর আইভিএফে তৈরি ভ্রূণ সংরক্ষণ করব। সেইসব ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হবে গ্রামে গ্রামে গৃহপালিত গাভীতে। সারোগেসির মাধ্যমে আমরা অনেক বেশি দুধ উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাব।