কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: রেশন বণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ই-পস মেশিনের সঙ্গে ইলেকট্রনিক ওজন যন্ত্র যুক্ত করার নিয়ম চালু হয়েছে। এই কাজে বিজেপি শাসিত অনেক রাজ্যের থেকে অনেকটা এগিয়ে আছে পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে এই কাজ ১০০ শতাংশ হয়েছে। এই রাজ্যের ২১ হাজার ১০৫টি রেশন দোকানের সব ক’টিতেই ই-পস মেশিনের সঙ্গে ইলেকট্রনিক ওজন যন্ত্রটি যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বিজেপি তথা এনডিএ শাসিত একাধিক ‘ডবল ইঞ্জিন’ রাজ্যের পারফরম্যান্স খুব খারাপ। ২১টি রাজ্যে এই কাজ এক শতাংশও হয়নি বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্ট। এই রাজ্যগুলির মধ্যে অনেকগুলি বিজেপি শাসিত। এর মধ্যে আছে গুজরাত মধ্যপ্রদেশ, বিহার, দিল্লি, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, অসম, গোয়া, অরুণাচল প্রদেশ প্রভৃতি। কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটক, হিমাচল প্রদেশেও এই কাজ হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গ সহ মোট ১০টি রাজ্যে এই কাজ ১০০ শতাংশ সম্পূর্ণ হয়েছে। অন্য রাজ্যগুলির মধ্যে আছে ওড়িশা, রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, পাঞ্জাব প্রভৃতি। ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড ও তামিলনাড়ুতে কাজটি একশো শতাংশের কাছাকাছি হয়েছে। রেশন দোকানে ই-পস মেশিনের সঙ্গে খাদ্যসামগ্রী ওজন করার ইলেকট্রনিক যন্ত্র যুক্ত করা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে রেশন গ্রাহককে কোনও ডিলার তাঁর প্রাপ্য পরিমাণের থেকে কম খাদ্যসামগ্রী দিতে পারবেন না। যত ওজনের চাল-গম কোনও রেশন গ্রাহকের জন্য বরাদ্দ, সেই পরিমাণ সামগ্রী ওজন করা হলে তবেই ই-পস মেশিন থেকে ছাপা রসিদ বের হবে। ই-পস মেশিন অনেক আগেই রেশন দোকানে চালু হয়েছে। কিন্তু সেখানে গ্রাহককে কম ওজনের সামগ্রী দিয়ে বঞ্চিত করার সুযোগ ছিল। কারণ, ই-পস মেশিনে প্রাপ্য যতটা, ততটা সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে দেখালেও ওজন করার সময় তার থেকে কম দেওয়া সম্ভব ছিল। এই ব্যবস্থায় সেটা আর সম্ভব নয়।
এই প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গে যাতে সর্বত্র চালু হয়, তার জন্য বিশেষভাবে সক্রিয় ছিল খাদ্যদপ্তর। রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যা চাইছে, তাঁরা মানুষের স্বার্থে সেটাই কার্যকর করছেন। কিন্তু ডিলারদের আর্থিকভাবে বঞ্চনা অব্যাহত আছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানান, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কেউই তাঁদের কমিশন বৃদ্ধি করতে আগ্রহী নয়। অধিকাংশ রাজ্যে ই-পস মেশিন ও ইলেকট্রনিক ওজন যন্ত্র ব্যবহার করার জন্য কুইন্টাল প্রতি যে অতিরিক্ত ২১ টাকা করে কমিশন দেওয়ার কথা বলেছিল, সেটাও দেওয়া হচ্ছে না।