নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন এক বা দুই দফায় হলে রাজ্য পুলিশের সমস্যা হতে পারে। সমস্যা হতে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটের লাইন মেনটেন করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ পাওয়া নিয়ে। দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন এক বা দুই দফায় হলে রাজ্য পুলিশের সমস্যা হতে পারে। সমস্যা হতে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটের লাইন মেনটেন করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ পাওয়া নিয়ে। দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের
অফিসে বাহিনী নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। সূত্রের খবর, পুলিশের এই উদ্বেগের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে সেখানেই। বাংলায় বাহিনীর অপ্রতুলতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সেক্ষেত্রে তিন দফায় ভোট হলে এই সমস্যা এতটা হবে না বলেই রাজ্যের দাবি। তবে কমিশন যদি দুই দফায় ভোট করাতে চায়, সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে? কোথায়, কত বাহিনী রাখা হবে? পুলিশ কর্তারা তারও প্রস্তুতি সেরে রাখছেন। সূত্রের খবর, ফোর্স বণ্টনে বাড়তি গুরুত্ব পাবে স্পর্শকাতর এলাকাগুলি। লক্ষ্য থাকবে, সমস্ত ধরনের গোলমাল রুখে দেওয়া। আপাতভাবে ঝঞ্ঝাটহীন স্থানে ফোর্স কিছুটা কম হলেও সামলে নেওয়া সম্ভব। গোটা পরিকল্পনা এমনভাবে সাজানো হবে, যাতে যেকোনও জায়গার অশান্তিতে পুলিশ দ্রুত ‘রেসপন্স’ করতে পারে।
নতুন বছর পড়তেই বেজে গিয়েছে রাজ্যে ভোটের দামামা। রাজনৈতিক দলগুলি বিভিন্ন জেলায় জনসমাবেশ বা মিটিং শুরু করে দিয়েছে। ভোটের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনও (ইসিআই)। বারবার দিল্লি গিয়ে ইসিআই সদর দপ্তরে বৈঠক করছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) এবং অন্য উচ্চপদস্থ কর্তারা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে বাহিনী কত আছে, শীর্ষ ইসিআই কর্তারা তা জানতে চেয়ে দিল্লিতে রাজ্য পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী কত দরকার, সেই প্রসঙ্গও উঠে আসে তখন।
নবান্ন সূত্রের খবর, বৈঠকে জানানো হয়, এক বা দুই দফায় ভোট হলে প্রায় ৬ হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগবে। কিন্তু এই বিপুল বাহিনী কমিশনের পক্ষে জোগাড় করা সমস্যার ব্যাপার। কারণ বিএসএফ, সিআরপিএফ, আইটিবিপির পাশাপাশি অন্য একাধিক রাজ্যের বিরাট সংখ্যক পুলিশ বাহিনী তুলে আনতে হবে। তাতেও যে সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলবে তা পর্যাপ্ত হবে না। প্রসঙ্গত জানানো যায়, ২০২১ সালে ৮ দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হয়েছিল ১০২১ কোম্পানি।
রাজ্য পুলিশের তরফে বলা হয়, কনস্টেবল থেকে ইনসপেক্টর পর্যন্ত ৯১ হাজার ফোর্স রয়েছে। তাঁরা মাঠে নেমে ডিউটি করেন। ভোটের দিন রাজ্য পুলিশকে বুথের লাইন মেনটেন ও আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করতে হয়। এক বা দুই দফায় ভোট হলে যত সংখ্যক বুথ রয়েছে তাতে সমস্ত জায়গায় লাইন মেনটেন করার জন্য ফোর্স পাওয়া যাবে না। এমনকি, কুইক রেসপন্স টিমসহ পিকেট ডিউটি করার মতো পুলিশ কর্মী পাওয়াও দুষ্কর হতে পারে। সেখানে তিন দফায় ভোট হলে সেই সমস্যা অনেকটাই সামলে দেওয়া যাবে। সরাসরি না-হলেও প্রশাসনিক মহলের সকলেই চাইছেন দুইয়ের বেশি দফায় ভোট নেওয়া হোক। রাজ্যের কাছে ফোর্সের হিসেব পাওয়ার পরই ইসিআই সমস্ত কিছু কাটাছেঁড়া করে দফার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার জন্য বিভিন্ন স্কুলবাড়ি নেবে পুলিশ। বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো শুরু হয়ে গিয়েছে। একইসঙ্গে আজ, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মধ্যে কলকাতা পুলিশের সমস্ত থানাকে নোডাল অফিসারদের নাম ও ফোন নম্বর পাঠাতে বলেছে লালবাজার। কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার বিষয়ে সমন্বয় করবেন তাঁরাই।