নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কিছু ক্ষেত্রে ভোটে লড়ার টিকিট মিলবে ঠিকই। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে যা একপ্রকার ‘প্রবণতা’য় পরিণত হয়েছে, তাতে রাশ টানবে বঙ্গ বিজেপি। অর্থাৎ, রাজ্যে আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনে অন্যবরের মতো প্রার্থীপদ নিয়ে দলবদলু নেতাদের অযথা ‘সুপারিশ’ আর মানবে না শীর্ষ নেতৃত্ব। বরং এক্ষেত্রে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে বঙ্গ বিজেপির তথাকথিত আদিপন্থী নেতাদের মতামত ও পরামর্শকেই। বিজেপির অন্দরের খবর, আগামী দিনে দলবদলু নেতাদের উপর আরও খড়্গহস্ত হওয়ার পথেই হাঁটছে বাংলার গেরুয়া শিবির।
বিজেপির নিয়মনীতি অনুসারে, ভোটের প্রার্থীপদ চূড়ান্ত করার অধিকার শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় পার্টির রয়েছে। লোকসভা নির্বাচন হোক বা বিধানসভা ভোট, অথবা উপনির্বাচন— রাজ্যে রাজ্যে দলের প্রার্থীপদে সিলমোহর দেয় বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটিই। তার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত থাকেন। কিন্তু বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকে যেসব সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম নিয়ে আলোচনা হয়, সেগুলি পাঠায় সংশ্লিষ্ট রাজ্য পার্টিই। এক্ষেত্রেই রাজ্য কমিটির বিভিন্ন নেতা তাঁর ‘প্রভাব’ বিস্তারের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশেরই। তাঁর পছন্দের ব্যক্তিকে টিকিট দিতে হবে, অনেক সময়ই এই মর্মে রাজ্য পার্টির দায়িত্বপ্রাপ্তদের উপর চাপও সৃষ্টি করা হয়।
গেরুয়া শিবিরের অন্দরের খবর, এহেন ‘প্রবণতা’য় অনেক সময়ই দলের প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। অনেক সময়ই তুলনায় ‘যোগ্য’ প্রার্থীর নাম বাদ পড়ে গিয়েছে। ‘প্রভাব’ খাটিয়ে যিনি প্রার্থী হয়েছেন, তিনি জিততেই পারেননি। সার্বিকভাবে এর ফল ভুগেছে দল। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে যে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় এই ব্যবস্থাই আমূল পাল্টে দিতে চলেছে বিজেপি। সম্প্রতি বিজেপির রাজ্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তিনি প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। শমীকবাবু রাজ্য বিজেপির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বঙ্গ বিজেপিতে পুরনো নেতাকর্মীদের গুরুত্ব ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গ বিজেপির প্রার্থী বাছাইয়ের কৌশল পরিবর্তন তারই নবতম সংযোজন।