নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বছর ঘুরলেই রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন। ‘দু’হাজার ছাব্বিশ, তৃণমূল ফিনিশ’-এর মতো গালভরা স্লোগানও তৈরি করে ফেলেছে বঙ্গ বিজেপি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত নতুন রাজ্য কমিটিই গঠন করতে পারেনি বিজেপি। দলীয় সাংগঠনিক প্রস্তুতি দূর কি বাত! ভোটকে পাখির চোখ ধরলে দলীয় নেতৃত্ব কেন এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি এখনও করে উঠতে পারেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পদ্মশিবিরের নেতা-কর্মীদের একটি বড় অংশ।
এই পরিস্থিতিতে নয়া সাংগঠনিক দায়িত্ব পেয়ে বিধানসভা নির্বাচনে কারা লড়বেন, আপাতত সেই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠছে দলের অন্দরে। সামগ্রিকভাবে এই বিষয়ে যথেষ্ট চাপে বিজেপির বঙ্গ শিবির। জানা যাচ্ছে, এই ব্যাপারে ইতিমধ্যে রাজ্য বিজেপিকে চরম সময়সীমা দিয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ফলে বিষয়টি দলীয় নেতৃত্বের কাছে আরও বেশি অস্বস্তির হয়ে উঠেছে।
মাসদুয়েক আগে রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর থেকেই তিনি ক্রমাগত ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই পর্বে দলে ‘আদিপন্থী’ হিসেবে পরিচিত নেতাদের গুরুত্ব বাড়বে। সেইমতো তৈরি হবে নয়া রাজ্য কমিটি। কিন্তু পরিকল্পনাই সার। আদতে নয়া কমিটি গঠন করতেই প্রবল হিমশিম খেতে হচ্ছে শমীকবাবুকে। দলীয় সূত্রে খবর, এক্ষেত্রে আদি এবং নব্যপন্থী নেতাদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়েই কার্যত দিশাহারা পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে উঠে আসছে আরও একটি তত্ত্ব। বিজেপির অন্দরের খবর, রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক দায়িত্ব যাঁরা পাবেন, অর্থাৎ নয়া রাজ্য কমিটিতে যাঁরা তালিকাভুক্ত হবেন, তাঁরা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না। এমন একটি নিয়ম চালু করতে চাইছেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। তাঁদের একাংশের যুক্তি, প্রার্থী হলে সাংগঠনিক কাজ ঠিকমতো সামলানো সম্ভব হবে না। আবার কেউ যদি প্রার্থী হওয়ার পরেও সাংগঠনিক কাজে বেশি সময় দেন, তাহলে নিজের আসনে তাঁর জেতার সম্ভাবনা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। ফলে দু’টো দায়িত্ব আলাদা করতে চাইছেন বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা। আর এতেই যত বিপত্তি। কারণ রাজ্য বিজেপিতে প্রত্যেকেই ‘সম্ভাব্য জয়ী প্রার্থী’। তাই সকলেই প্রার্থী হতে মরিয়া। এই ব্যাপারে রাজ্য বিজেপির বর্তমান অন্যতম সহ-সভাপতি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, ‘দলের নেতা-কর্মীরা যথেষ্ট সক্রিয় আছেন। দলের রাজ্য কমিটি গঠন হল কি না, তার সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই। নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে না।’