নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও বারাসত: ‘আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে’—দাবি করেছিলেন খুনে অভিযুক্ত রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন। কিন্তু, সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনায় ঘনিষ্ঠ চারজন গ্রেফতার হতেই অন্য ছবি দেখা গেল। গ্রেফতারি এড়াতে সোনা ব্যবসায়ী খুনে অবশেষে আগাম জামিনের আবেদন করলেন বিডিও প্রশান্ত বর্মন! জানা গিয়েছে, গত ১১ নভেম্বর আইনজীবী মারফত তিনি ওই আবেদন করেছেন। এই ব্যাপারে উত্তর ২৪ পরগনা বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অলক সমাজপতি বলেন, গত ১১ তারিখ প্রশান্ত বর্মনের এক আইনজীবী বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন। তবে, তাঁর হয়ে কে লড়বেন বারাসত থেকে তা এখনও স্পষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। আগামী ২৬ তারিখ মামলার শুনানি।
সল্টলেক থেকে সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ করে গত ২৮ অক্টোবর নিউটাউনে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। পরদিন ২৯ অক্টোবর তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ওই ঘটনায় ৩১ অক্টোবর পরিবারের তরফে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। ওই ঘটনার তদন্তে নেমে, খুনে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রথমে বিডিওর গাড়ি চালক রাজু ঢালি এবং তাঁর ঠিকাদার-বন্ধু তুফান থাপাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। তাদের জেরা করে বিডিও-ঘনিষ্ঠ কোচবিহার-২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সজল সরকারকে গ্রেফতার করে বিধাননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা শাখা। মঙ্গলবার রাতে সজলের গাড়ি চালক বিবেকানন্দ সরকার ওরফে সোনাইকে কোচবিহার থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তার বাড়ি কোচবিহারের পুন্ডিবাড়ির খরিজা কাকরিবাড়ি গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সজলের সূত্রেই বিবেকানন্দের সঙ্গে বিডিওর পরিচয়। নিউটাউন কাণ্ডে একটি ভিডিয়োতে ধৃত বিবেকানন্দকে দেখাও গিয়েছে। খুনের পর সে দেহ লোপাটের জন্য সে গাড়ি চালিয়েছিল? তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই মামলায় পরপর চারজন গ্রেফতার হতেই এখন বিভিন্ন জায়গায় কৌতূহল তুঙ্গে! তাহলে পঞ্চমজন কে? খোদ মাথা? নাকি তিনি গ্রেফতার হবেন ষষ্ঠ নম্বরে? কারণ, খুনের সময় নিউটাউনের ফ্ল্যাটে ৬ জনের প্রত্যক্ষ যোগ মিলেছে। আরও দুই রহস্যময়ীর উপস্থিতি রয়েছে। প্রভাবশালী ‘মাথা’র সঙ্গে তাদের যোগও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।