নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও সংবাদদাতা, দেওয়ানহাট: স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও খুনে প্রধান অভিযুক্ত রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন আগাম জামিন পেয়েছেন। তারই মধ্যে এই খুনের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেফতার করল বিধাননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা শাখা। বৃহস্পতিবার রাতে কোচবিহার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম গোবিন্দ সরকার। এই গোবিন্দ কোচবিহারের বহিষ্কৃত তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সজল সরকারের দ্বিতীয় গাড়ি চালক। সজলবাবু বিডিও ঘনিষ্ঠ। তদন্তে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, খুনের সঙ্গে গোবিন্দর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্যও মিলেছে। গোবিন্দকে নিয়ে এই খুনের ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৫। তবে অনেকেরই প্রশ্ন, ‘আসল মাথা’ ধরা পড়বে কবে?
স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের এফআইআরে একমাত্র রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনেরই নাম রয়েছে। এই অপহরণ-খুনের ঘটনায় পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা একে একে বিডিও ঘনিষ্ঠদের গ্রেফতার করেছে। এর আগে বিডিওর গাড়ি চালক, বিডিও ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারবন্ধু, বিডিও ঘনিষ্ঠ কোচবিহারের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সজল সরকার এবং সজলের এক গাড়ি চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় সজলবাবু কোচবিহার-২ ব্লক সভাপতি পদেই ছিলেন। তবে গ্রেফতারের পর তাঁকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। এই কাণ্ডে আগাম জামিন চেয়ে বারাসত জেলা আদালতে আবেদন করেছিলেন প্রধান অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মন। গত ২৬ নভেম্বর আদালত তাঁকে ৫০ হাজার টাকা বন্ডে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছে। সূত্রের খবর, ওই আগাম জামিনের বিরোধিতা করে পুলিশ উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। কারণ, এই খুনের ঘটনায় বিডিও যে যুক্ত, তিনি নিজেই যে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধর করেছিলেন, তা আদালতে জানিয়েছেন সরকার পক্ষের আইনজীবী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে তৃণমূল নেতা সজলের গাড়ি চালককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এবার তাঁর দ্বিতীয় চালককেও গ্রেফতার করা হল। গোবিন্দর বাড়ি পুণ্ডিবাড়ি থানার খাগড়াবাড়িতে। গোবিন্দকে অসম-বাংলা সীমানার কাশিয়াবাড়ি হাইরোড থেকে গ্রেফতার করা হয়। তুফানগঞ্জ আদালতের সরকারি আইনজীবী সঞ্জীবকুমার বর্মন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে অভিযানে নামে বিধাননগর পুলিশ। পরে কোচবিহারের বক্সিরহাট থানার কাশিয়াবাড়ি হাইরোড থেকে সজল সরকারের গাড়িচালক গোবিন্দকে গ্রেফতার করা হয়।’ শুক্রবার ধৃতকে তুফানগঞ্জ মহকুমা দায়রা আদালতে তুলে ট্রানজিট রিমান্ডে বিধাননগরে নিয়ে আসা হচ্ছে।