Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে তুলে এনেই মারধর করেন বিডিও!

সল্টলেক থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে তুলে নিয়ে এসেছিলেন রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন!

স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে তুলে এনেই মারধর করেন বিডিও!
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ: সল্টলেক থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে তুলে নিয়ে এসেছিলেন রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন! ফ্ল্যাটে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়! বৃহস্পতিবার বিডিও’র বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের সামনে এমনই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি তাঁরই ফ্ল্যাটের এক পরিচারকের। যে নিজেকে ‘সোনা চোর’ বলে দাবিও করেছেন! ওই পরিচারক বিডিও’র কুকুরের দেখভাল করতেন। তাঁর দাবি, নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়ায় একটি বহুতলে বিডিও’র ফ্ল্যাট রয়েছে। যদিও সেটির মালিকানা কার নামে, তিনি সঠিক জানেন না। ওই বাড়ি থেকে প্রায় ৪০০-৫০০ গ্রাম সোনা চুরি করেছিলেন তিনি! সেই সোনা বিক্রি করেছিলেন স্বপনের দোকানে। গত ২৮ অক্টোবর বিডিও নিউটাউনের ফ্ল্যাটে দু’জনকেই তুলে এনেছিলেন। দু’জনকেই মারধর করা হয় সেখানে। সন্ধ্যায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু, স্বপনকে ছাড়া হয়নি!

Advertisement

ওই পরিচারকের স্ত্রীর দাবি, তাঁদের বাড়িতে প্রথমে এসেছিলেন বিডিও। তাঁকে এবং তাঁর মেয়েকেও মারধর করা হয়েছিল! প্রসঙ্গত, ৩১ অক্টোবর বিডিও’র বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী স্বপনবাবুকে অপহরণ ও খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল বিধাননগর দক্ষিণ থানায়। এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও ওই ঘটনায় একজনও গ্রেফতার হয়নি! এ ব্যাপারে বিধাননগর কমিশনারেটের এক আধিকারিক বলেন, তদন্ত চলছে। সূত্রের খবর, বেশ কিছু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সল্টলেক দত্তাবাদ থেকে নিউটাউনের অ্যাকশন-১ এর বহুতল পর্যন্ত এলাকার একাধিক ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর সল্টলেক দত্তাবাদে থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা এবং তাঁর ভাড়াবাড়ির মালিককে গাড়িতে তোলা হয়েছিল। অভিযোগ, বিডিও দু’টি গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন। ওই গাড়ি আসে নিউটাউনের বহুতলের সামনে। ওইদিন বহুতলের নীচে নম্বর প্লেটবিহীন তিনটি বাইকও দেখেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাত ৯টা নাগাদ নাকি চ্যাংদোলা করে স্বপনবাবুকে ফ্ল্যাট থেকে বের করা হয়েছিল। পরদিন ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রগাছি থেকে স্বপন কামিল্যার মৃতদেহ উদ্ধার হয়! তাতেই রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।
অভিযুক্ত বিডিও কি ‘বেপাত্তা’? বৃহস্পতিবারও সরকারি দপ্তরে তাঁর দেখা মেলেনি। শিলিগুড়ির শিবমন্দির এলাকার বাড়িতেও তালা ঝুলছিল। এদিনই বকেয়ার দাবিতে রাজগঞ্জ বিডিও অফিস চত্বরে বিক্ষোভ দেখান একদল ঠিকাদার। বিডিও’র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠায় তাঁকে গ্রেফতারের দাবিও তোলেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। এসআইআর পর্বে অফিসে বিডিও হাজির না থাকায় অনেককেই এদিন কাজ করাতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যান। জয়েন্ট বিডিও অবশ্য বলেন, সমস্ত পরিষেবা চলছে। ‘উধাও’ হয়ে যাওয়া বিডিও প্রশান্ত বর্মনের সঙ্গে এদিন রাতে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে। একাংশ ষড়যন্ত্র করছে। চাকরিতে বদলি অনেকেরই রদ হয়। সব ক্ষেত্রে সবটা সামনে আসে না। আমি আইনের দ্বারস্থ হব। অফিসে না আসা প্রসঙ্গে জানান, এসআইআরের কাজে ফিল্ডে ছিলাম। মাথা চক্কর দেওয়ায় বাড়িতে চলে যাই। তাই পরে আর অফিসে যাওয়া হয়নি!

সম্পর্কিত সংবাদ