নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, বিধাননগরও জলপাইগুড়ি: প্রথমে নীলবাতির গাড়িতে করে অপহরণ, তারপর ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুন! স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনে প্রধান অভিযুক্ত জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন। এই কাণ্ডে পাঁচজন গ্রেফতার হলেও প্রধান অভিযুক্তকেই আগাম জামিন দিয়েছিল বারাসত জেলা আদালত! স্বমেজাজে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল বিধাননগর পুলিশ। ওই মামলার শুনানিতে আগাম জামিন খারিজ করে দিল হাইকোর্ট। এমনকি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রশান্তকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের রায় শুনেই তাঁর রাজগঞ্জের অফিস ছেড়ে বেরিয়ে যান বিডিও। তারপর মোবাইল স্যুইচ অফ করে দেন। তাই তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গত ২৮ অক্টোবর স্বপন কামিল্যাকে সল্টলেক থেকে অপহরণ করে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই খুন করা হয় তাঁকে। ওই ঘটনায় স্বপনবাবুর পরিবার বিডিওর বিরুদ্ধে অপহরণ ও খুনের মামলা করেন। এই কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত পাঁচজন গ্রেফতার হয়েছে। তাদের চারজনই বিডিও-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। এরই মধ্যে গত ১১ নভেম্বর বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন বিডিও। ২৬ নভেম্বর শুনানিতে তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করে বারাসত আদালত। ২৯ নভেম্বর বিডিও সল্টলেকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে হাজির হয়ে সেই জামিন নেন।
জেলা আদালতের শুনানিতে সরকারি পক্ষের আইনজীবী আদালতে স্পষ্ট জানান, এই মামলায় বিডিও সরাসরি যুক্ত! তিনি বেল্ট দিয়ে নিজে মারধর করেছিলেন। পুলিশের হাতে এসেছে একাধিক ডিজিটাল এভিডেন্সও। যদিও তারপরেও প্রশান্তর আগাম জামিন মঞ্জুর হয়! সোমবার হাইকোর্টে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে শুনানিতে বিডিও’কে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে জেলা আদালতকে ভর্ৎসনাও করেছেন।
বিচারপতি ঘোষের পর্যবেক্ষণ, খুনের মতো ঘটনায় জামিন বা আগাম জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতকে যেসব বিষয়ের উপর নজর রাখতে হয়, এই ব্যাপারে তার কোনওটাই বারাসত আদালত করেনি! গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ অস্বীকার করে জামিন দিয়েছেন বারাসতের বিচারক।
বিচারপতি ঘোষের আরও পর্যবেক্ষণ, ‘অভিযুক্ত একজন ডব্লুবিসিএস অফিসার বলেই তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে।’ বিচারপতির প্রশ্ন, এই খুনের মামলায় সহযোগীরা জেলে রয়েছেন। কিন্তু, মূল অভিযুক্ত জামিনে! তা কি সম্ভব? মূল অভিযুক্ত জামিনে থাকলে ন্যায়বিচারে প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রশান্তের আইনজীবীর তরফে সাতদিন সময় চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু, সেই আর্জিতেও সাড়া দেননি বিচারপতি ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রশান্তকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।