Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৪ বছর সমন এড়ানো পুলিস অফিসারকে হেফাজতে নিলেন বিচারক, আলোড়ন

৪ বছর সমন এড়ানো পুলিস অফিসারকে হেফাজতে নিলেন বিচারক, আলোড়ন
  • ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: একটি মামলায় সাক্ষ্য দিতে আসা তদন্তকারী পুলিস অফিসারকে হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠল তমলুক কোর্ট চত্বর। আদালতকে অবজ্ঞা করার অভিযোগ ওঠে ওই পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে। প্রায় চার বছর ধরে বারবার সমন পাঠানোর পরেও তিনি হাজির হননি। তারজন্য প্রথমে জামিনযোগ্য ধারায় পরোয়ানা জারি হয়। তাতেও সাক্ষ্য দিতে না আসায়। ৬ জানুয়ারি ওই অফিসারের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় পরোয়ানা জারি করে আদালত। তাতেই টনক নড়ে। শুক্রবার তমলুকের সেকেন্ড কোর্টে (সিনিয়র ডিভিশন-২) সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ছিল। সেখানে হাজির হন সুব্রত দাশগুপ্ত নামে ওই পুলিস অফিসার। বিকেল ৩টে ৪০মিনিট নাগাদ তাঁকে হেফাজতে নেন বিচারক ওবেদ টেসরিং লেপচা। তারপরই তোলপাড় তমলুক কোর্ট। ওই পুলিস অফিসারের জামিনের জন্য আইনজীবীদের একটা অংশ ডিস্ট্রিক্ট জজের দ্বারস্থ হন। অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হবে কেন, তা নিয়ে পাল্টা আইনজীবীদের অপর অংশ সরব হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সমস্যা মেটেনি।২০১৮ সালে ২১জুন কোলাঘাট থানার শালুকা গ্রামের তনুজা খাতুন নামে এক গৃহবধূ খুনের চেষ্টার অভিযোগ জানিয়ে এফআইআর করেন। কোলাঘাট থানায় ওই ঘটনার তদন্তকারী অফিসার ছিলেন সুব্রত দাশগুপ্ত। বর্তমানে তিনি হাওড়ার দাসনগর থানায় কর্মরত। ২০১৯সালে ৮জুলাই ওই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মামলার তদন্তকারী অফিসার হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ওই পুলিস অফিসারকে সমন পাঠানো হয়। টানা চার বছর সমন পাঠানো হলেও আইনশৃঙ্খলার কাজে ব্যস্ত থাকার অজুহাত দেখিয়ে তিনি কোর্টে সাক্ষ্য দিতে আসেননি।বারবার সমন পাঠানোর পরেও ওই পুলিস অফিসার গরহাজির থাকায় আদালত ক্ষুব্ধ হয়। ওই পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে জামিন যোগ্য‌ ধারায় পরোয়ানা জারি করে আদালত। তাঁকে সাক্ষ্য দিতে আসার জন্য পুলিস কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তারপরেও ওই পুলিস অফিসার গরহাজির থাকেন। ইতিমধ্যে বিচারক বদলি হয়েছেন। একটানা সমন এবং পরোয়ানা জারির পরেও পুলিস অফিসারের অনুপস্থিততে কোর্টের মর্যাদাহানি হয়েছে বলে পূর্বতন বিচারক কঠোর ‘অবজার্ভেশন নোট’ করে যান। তারপর বিচারক বদলি হয়েছেন। গত ৫জানুয়ারি ওই পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় পরোয়ানা জারি হয়। কোর্ট খড়্গহস্ত হতেই শুক্রবার মামলার দিনে ওই পুলিস অফিসার হাজির হন।
Advertisement
এদিন ওই পুলিস অফিসার এজলাসে হাজির হলে বিচারক তাঁকে পিটিশন জমা দিতে নির্দেশ দেন। বছরের পর বছর কেন তিনি কোর্টের নির্দেশ অমান্য করেছেন এবং আদালতের মর্যাদাকে অবজ্ঞা করেছেন, তা নিয়ে পিটিশন জমা দিতে বলেন। ওই পুলিস অফিসার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়ে একটি আবেদন জমা করেন। কিন্তু, বিচারক তাঁকে হেফাজতে নেন। তারপরই আইনজীবীদের মধ্যে হইচই পড়ে যায়। সরকারি আইনজীবী সৌমেন কুমার দত্ত বলেন, ওই পুলিস অফিসার ধারবাহিকভাবে সমন উপেক্ষা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দু’দফায় পরোয়ানা জারি হয়। তারপর তিনি আদালতে উপস্থিত হন। আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার জন্য বিচারক তাঁকে হেফাজতে নেন। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ