নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জনসংখ্যা বাড়ছে। ভোটারও বাড়বে। ভারতে জনসংখ্যার সিংহভাগই যুবসমাজ। ৩৫ বছরের মধ্যে থাকা বয়সিদের সংখ্যাই বেশি। এই তথ্য নতুন নয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের ভোটার সংখ্যা সংক্রান্ত রিপোর্ট বা অ্যাটলাস নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে সরকারের অন্দরে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী লোকসভা ভোটের সময় ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সি যুব ভোটারের শতকরা হার কমে গিয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের তুলনায় ২০২৪ সালে যুব ভোটারের শতাংশ কমে গিয়েছে। তারই জেরে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে সেন্সাস বিভাগের কর্তাদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বৈঠক। সেখানেই নির্বাচন কমিশনের অ্যাটলাসে বর্ণিত ভোটার সংখ্যা ও শতাংশ নিয়ে আলোচনা হবে। এই মাসেই সেন্সাস নিয়ে চুড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ২০২৪ সালের অ্যাটলাস রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, মোট ভোটারের মধ্যে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সি ভোটারের শতকরা হার কমেছে সব রাজ্যে। একমাত্র ব্যতিক্রম ঝাড়খণ্ড। ২০১৯ সালে মোট ভোটারের ২৫.৩৭ শতাংশ ছিল যুব ভোটার। ২০২৪ সালে সেটা হয়েছে ২২.৭৮ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে যুব ভোটার ছিল মোট ভোটারের ২৭.২৯ শতাংশ। আর ২০২৪ সালে কমে হয় ২৪.০৭ শতাংশ।
Advertisement
নির্বাচন কমিশনের বার্ষিক ভোটার তালিকা এবং পঞ্চবার্ষিক লোকসভা ভোটের অ্যাটলাস রিপোর্ট সর্বদাই ব্যবহার করা হয় সেন্সাস এবং ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভেতে। সেই কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে এই রিপোর্ট জমা পড়ে। বাজেটের পরই সেন্সাস নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে বলে আগেই স্থির করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এবার এই রিপোর্ট জমা হওয়ার পরই সেন্সাস নিয়ে তৎপরতা বেড়েছে। আগামী সপ্তাহে এই নিয়ে আলোচনা হবে। সেন্সাস শুরু হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হবে। এই মাসেই ওই সিদ্ধান্ত হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের খবর। যদিও হঠাৎ নতুন করে মেঘও জমেছে। কারণ বাজেটে বরাদ্দ। ২০২৫ সালেই বহু প্রতীক্ষিত সেন্সাস হতে চলেছে বলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছিল। অথচ বাজেটে দেখা গেল মাত্র ৫৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ সেন্সাস বিভাগে। ২০১৯ সালে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়। করোনাকাল চলে আসায় সেন্সাস হয়নি। সেন্সাস এবং ন্যাশনাল পুপলেশন রেজিস্টার বাবদ মোট ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে অনুমান করা হয়েছিল।



