পিনাকী ধোলে, কাশীপুর: ‘মা’ ডাক শোনার জন্য দীর্ঘ ১৫ বছর অপেক্ষা। বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতে কোথায় না ডাক্তার দেখাননি! হেন কোনও ঠাকুর নেই যাঁর মানত করেননি! অবশেষে দেড় দশক পর মাতৃত্বের স্বাদ পেতে চলেছিলেন কাশীপুরের চিটা রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মঞ্জু মণ্ডল। কত স্বপ্ন ছিল। কিন্তু, একটা দুর্ঘটনাই সবকিছু ওলটপালট করে দিল। ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার পথেই দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারালেন। গুরুতর জখম অবস্থায় তিনিও ভর্তি হাসপাতালে। গর্ভের সন্তানের কী খবর? ২৪ ঘণ্টা না পার হলে কিছুই বলতে পারছেন না ডাক্তাররা।
Advertisement
রবিবার সাত সকালেই সন্তানসম্ভবা স্ত্রী মঞ্জুকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলেন কাশীপুর থানার চিটা রঘুনাথুর গ্রামের বাসিন্দা নির্মল মণ্ডল(৪২)। তখনই তালাজুড়ি-পাহাড়পুর গ্রামীণ সড়কের রাঙ্গনিগোড়ায় ঘটে দুর্ঘটনাটি। পাথর খাদানের ডাম্পারের ধাক্কায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয় নির্মলের। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তাঁর গর্ভবতী স্ত্রী। দুর্ঘটনার পিছনে অবৈধ পাথর কারবারিদেরই দোষ দিচ্ছে নির্মলের পরিবার। যে রাস্তায় ১০টনের বেশি পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের কথা নয়, সেই রাস্তায় কীভাবে ৩৫ থেকে ৫০ টন পাথরবোঝাই গাড়ি যাতায়াত করছে? পরিবারের দাবি, সন্তানসম্ভবা হওয়ার পর থেকে স্ত্রীকে ছেড়ে কোথাও যাননি নির্মল। নির্মল চেন্নাইয়ে শ্রমিকের কাজ করতেন। কিন্তু, স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হতেই আর চেন্নাই যাননি। স্ত্রীকে বাড়ির কোনও কাজই করতে দিতেন না। দীর্ঘ আট মাস ধরে স্ত্রীকে এভাবেই আগলে রেখেছিলেন। স্ত্রীরও তো কোথাও যাওয়ার ছিল না! ছিল না বাপেরবাড়িও!
পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, মঞ্জুর বাপেরবাড়ি বান্দোয়ানের বাহাদুরপুরে। ছোট বেলাতেই বাবাকে হারিয়েছিলেন। ভাইবোন কেউ নেই। মা ছিলেন। কিন্তু, তিনি যেন মেয়েকে যা হোক করে পার করার অপেক্ষাতেই বেঁচে ছিলেন! মঞ্জুর বিয়ের পরেই মৃত্যু হয় তাঁর মায়ের। ফলে স্বামীই ছিল মঞ্জুর কাছে সবকিছু। সেই স্বামীকেও হারালেন তিনি। নিজেও গুরুতর জখম। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাঙ্গনিগোড়ার বাসিন্দা জয়ন্ত কর্মকার বলছিলেন, ডাম্পারটি ওই দম্পতিকে ধাক্কা মেরে একেবারে রাস্তার পাশের জমিতে এসে পড়েছিল। জমিতে কাদা ছিল। সেই কাদায় একেবারে ঢুকে গিয়েছিলেন স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই। মহিলার কোমরের জোর ছিল না একদম। মনে হয় ভেঙে গিয়েছে।
মৃতের ভাইপো প্রসেনজিৎ মণ্ডল বলেন, কাকিমাকে নিয়ে আমরা বাঁকুড়া মেডিক্যালে এসেছিলাম। কাকিমার দু’টি পা ও কোমরে গুরুতর চোট রয়েছে। কিন্তু, গর্ভে সন্তান থাকায় ডাক্তার এক্স-রে করতে চাইছেন না।
গর্ভের সন্তান কেমন রয়েছে? ফোনে কথা বলতে বলতে গলা ভারী হয়ে আসছিল প্রসেনজিতের। তিনি বলেছিলেন, ডাক্তারবাবুরা দেখেছেন। হার্ট বিট পেয়েছেন। পেটের ভিতর নড়াচড়া করেছে। তবে ২৪ ঘণ্টা পার না হলে কিছুই বলা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, বাঁকুড়া মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত অসহযোগিতা করেছে। বাধ্য হয়ে নার্সিংহোমে ভর্তি করেছি। বাঁকুড়া মেডিক্যালের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডু বলেন, চিকিৎসায় গাফিলতির সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। মেডিক্যালে যথাযথা পরিষেবা দেওয়া হয়।
রবিবার দুর্ঘটনার পর থেকেই শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল গোটা গ্রাম। শোকে পাথর নির্মলের বৃদ্ধ বাবা-মা। প্রতিবেশী শিবপ্রসাদ মণ্ডল, বিবেক মণ্ডল বলছিলেন, এর আগেও পাথর বোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় ওই এলাকায় এক স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছিল। এবার নির্মল মরল। আরও দু’টো প্রাণ মৃত্যুর মুখে। আর কত প্রাণ গেলে হুঁশ ফিরবে প্রশাসনের? যে রাস্তায় ভারী যান চলার অনুমোদন নেই, সেই রাস্তায় কীভাবে চলছে ডাম্পার?
পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, মঞ্জুর বাপেরবাড়ি বান্দোয়ানের বাহাদুরপুরে। ছোট বেলাতেই বাবাকে হারিয়েছিলেন। ভাইবোন কেউ নেই। মা ছিলেন। কিন্তু, তিনি যেন মেয়েকে যা হোক করে পার করার অপেক্ষাতেই বেঁচে ছিলেন! মঞ্জুর বিয়ের পরেই মৃত্যু হয় তাঁর মায়ের। ফলে স্বামীই ছিল মঞ্জুর কাছে সবকিছু। সেই স্বামীকেও হারালেন তিনি। নিজেও গুরুতর জখম। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাঙ্গনিগোড়ার বাসিন্দা জয়ন্ত কর্মকার বলছিলেন, ডাম্পারটি ওই দম্পতিকে ধাক্কা মেরে একেবারে রাস্তার পাশের জমিতে এসে পড়েছিল। জমিতে কাদা ছিল। সেই কাদায় একেবারে ঢুকে গিয়েছিলেন স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই। মহিলার কোমরের জোর ছিল না একদম। মনে হয় ভেঙে গিয়েছে।
মৃতের ভাইপো প্রসেনজিৎ মণ্ডল বলেন, কাকিমাকে নিয়ে আমরা বাঁকুড়া মেডিক্যালে এসেছিলাম। কাকিমার দু’টি পা ও কোমরে গুরুতর চোট রয়েছে। কিন্তু, গর্ভে সন্তান থাকায় ডাক্তার এক্স-রে করতে চাইছেন না।
গর্ভের সন্তান কেমন রয়েছে? ফোনে কথা বলতে বলতে গলা ভারী হয়ে আসছিল প্রসেনজিতের। তিনি বলেছিলেন, ডাক্তারবাবুরা দেখেছেন। হার্ট বিট পেয়েছেন। পেটের ভিতর নড়াচড়া করেছে। তবে ২৪ ঘণ্টা পার না হলে কিছুই বলা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, বাঁকুড়া মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত অসহযোগিতা করেছে। বাধ্য হয়ে নার্সিংহোমে ভর্তি করেছি। বাঁকুড়া মেডিক্যালের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডু বলেন, চিকিৎসায় গাফিলতির সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। মেডিক্যালে যথাযথা পরিষেবা দেওয়া হয়।
রবিবার দুর্ঘটনার পর থেকেই শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল গোটা গ্রাম। শোকে পাথর নির্মলের বৃদ্ধ বাবা-মা। প্রতিবেশী শিবপ্রসাদ মণ্ডল, বিবেক মণ্ডল বলছিলেন, এর আগেও পাথর বোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় ওই এলাকায় এক স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছিল। এবার নির্মল মরল। আরও দু’টো প্রাণ মৃত্যুর মুখে। আর কত প্রাণ গেলে হুঁশ ফিরবে প্রশাসনের? যে রাস্তায় ভারী যান চলার অনুমোদন নেই, সেই রাস্তায় কীভাবে চলছে ডাম্পার?



