সংবাদদাতা, ঘাটাল: যোগা কী সেটাই ভালো করে জানতেন না। সন্তানদের যোগা শেখাতে নিয়ে যেতে যেতেই সে সম্বন্ধে সামান্য জ্ঞান হয় ঘাটাল শহরের কুশপাতার বাসিন্দা ঝুমা মণ্ডলের। সন্তানদের নিয়মিত যোগা চর্চা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ৩৮ বছর বয়সে যোগার প্রতি ভালোবাসা জন্মায় ঝুমার। সেই ঝুমাই ২৮ ডিসেম্বর থেকে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে শুরু হওয়া ‘৪৩তম ন্যাশনাল যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ ৪০-৫০ বছর বয়সি মহিলাদের বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখন ঝুমার বয়স ৪১ বছর। তাঁর এই উন্নতি প্রমাণ করে যে, বয়স কোনও কাজেই বাধা হতে পারে না। ঝুমার এই উদ্যোগ ও আত্মবিশ্বাস ঘাটাল শহরকে গর্বিত করেছে। ঝুমার দুই সন্তানই ছোটবেলা থেকে যোগা শেখে। মেয়ে স্নেহা এবং ছেলে সায়নকে নিয়েমিত যোগার ক্লাসে নিয়ে যেতেন তিনিই। ক্লাসের দেওয়া অনুশীলনী বাড়িতেও অভ্যেস করাতে হতো। ঝুমা বলেন, ‘ওদের যোগা দেখে দেখেই আমারও যোগার প্রতি টান বাড়ে। বছর তিনেক আগে থেকে নিয়মিত অভ্যেস করতে শুরু করি। ছোট স্নেহা এখন ঘাটাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী, ছেলে দশম শ্রেণিতে পড়ে। তারা যোগা চর্চা ছাড়েনি। আর ঝুমা এবার জেলা ও রাজ্যস্তর অতিক্রম করে ধানবাদের জওহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের জাতীয়স্তরের ওই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছেন। ঘাটাল মহকুমা থেকে ঝুমা ছাড়াও ৭২ বছর বয়সি দাসপুর থানার নিমতলার বাসিন্দা অশোক দালালও জাতীয় স্তরের ওই প্রতিযোগিতার ষাটোর্ধ্ব বিভাগে অংশগ্রহণ করছেন। অশোকবাবু ১৩ বছর ধরে যোগা চর্চা করছেন। রাজ্যজুড়ে তাঁর কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী রয়েছে। অশোকবাবু বলেন, ‘রাজ্যস্তরে তো বটেই, আমি এর আগে বহুবার জাতীয়স্তরে অংশগ্রহণ করেছি। যতদিন বেঁচে থাকব নিয়মিত যোগা চর্চা করে যাব। ওটাও আমার শরীরের অক্সিজেন।’ তবে পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ওই প্রতিযোগিতায় ঝুমা ও অশোকবাবুকে নিয়ে মোট পাঁচ জন বিভিন্ন গ্রুপে জাতীয় স্তরের যোগায় অংশগ্রহণ করছে। বাকিরা হলেন, বেলদার গোপাল রক্ষিত (৩০-৪০ বছর), মেদিনীপুর শহরের রোহনলাল জয়সোয়াল (২০-৩০ বছর) এবং বেলদার সোহম পাত্র (১৪-২০ বছরের গ্রুপে)। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতাটির সূচনা করা হয়েছ। চলবে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
Advertisement
(যোগা প্রতিযোগিতায় ঝুমা মণ্ডল ও অশোক দালাল।)



