নিউ ইয়র্ক: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অ্যাডলফ হিটলারের নেতৃত্বে ইহুদিদের উপর নাৎসি বাহিনীর অত্যাচার থেকে প্রাণ হাতে করে সাংহাইয়ে পালিয়েছিলেন রোজ জিরোনে। জার্মানির পাশাপাশি জাপানের আক্রমণের সাক্ষীও ছিলেন। এক সময় শেষ হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল চেনা চারপাশ। আট দশক সেই পরিবর্তনের সাক্ষী ছিলেন রোজ। হলোকাস্টের দুঃসহ স্মৃতি বুকে চেপে গত ১৩ জানুয়ারি পা রেখেছিলেন ১১৩ বছরে। শেষ পর্যন্ত গত সোমবার না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তিনি। হিটলারের ইহুদি নিধন যজ্ঞ থেকে বেঁচে ফেরা বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি। নিউ ইয়র্কের বেলমোরের এক হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেহা বেন্নিকাসা।
Advertisement
রোজ জিরোনের জন্ম ১৯১২ সালে, তৎকালীন রাশিয়ার অংশ হিসেবে থাকা পোল্যান্ডের দক্ষিণাংশে, এক ইহুদি পরিবারে। জন্মের পরে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল রোজ রাউভোগেল। ছোটবেলাতেই তাঁকে নিয়ে জার্মানির হামবুর্গে চলে যান বাবা-মা। ১৯৩৭ সালে জুলিয়াস ম্যানহেইম নামে এক জার্মান-ইহুদির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। রোজ যখন আট মাসের গর্ভবতী, আচমকাই নেমে এল বিপর্যয়। গ্রেপ্তার হলেন জুলিয়াস। তাঁকে পাঠানো হল মধ্য জার্মানির অন্যতম কুখ্যাত নাৎসি কনসেনস্ট্রেশন ক্যাম্প বুখেনওয়াল্ডে। শুধু জুলিয়াস নয়, নাৎসি সেনা গ্রেপ্তার করতে চেয়েছিল রোজকেও। কিন্তু গর্ভবতী বলে সে যাত্রায় রেহাই মেলে। কিছুদিন পরে, ১৯৩৮ সালে জন্ম হয় মেয়ে রেহার। পরে ইউএসসি সোহা ফাউন্ডেশনের এক সাক্ষাৎকারে রোজ বলেন, ‘মেয়ের জন্য আমার যে নামটা সবচেয়ে বেশি পছন্দ ছিল, তা রাখতে পারিনি। কারণ তখন ইহুদি শিশুদের একটা নামের তালিকা তৈরি করেছিলেন হিটলার। তাই এই নামটাই আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দ হয়েছিল।’ সদ্যোজাত মেয়ের খবর জানিয়ে কনসেনস্ট্রেশন ক্যাম্পে বন্দি স্বামীকে চিঠিও লেখেন তিনি। এরপরেই ঘটনাচক্রে লন্ডনে বাসরত এক আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ হয় রোজের। সেই ব্যক্তির সহায়তায় রোজ ও জুলিয়াসের সাংহাই যাওয়ার ভিসার ব্যবস্থা হয়। কারণ সেই সময়ে একমাত্র সাংহাই বন্দরই ইহুদি উদ্বাস্তুদের প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছিল। কিন্তু বিপদ যেন পিছু ছাড়ল না তাঁদের। তখন চীনের সঙ্গে লড়াই চলছে জাপানের। তাদের দখলে থাকা বন্দর ও চীনে আশ্রয় নেওয়া ইহুদিদের পাঠানো হল ‘ঘেটো’য় (ইহুদি পুনর্বাসন কলোনি)। চীনে থাকাকালীন উলের পোশাক বুনে বিক্রি করা শুরু করেন রোজ। পরবর্তীতে এই পেশাই ছিল তাঁর আজীবনের সঙ্গী। জীবনশক্তিও।
যুদ্ধের পর সপরিবারে মার্কিন মুলুকে পাড়ি দেন রোজ। শুরু হয় জীবনের এক নতুন অধ্যায়। এর মধ্যে ১৯৬৮ সালে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় রোজের। বিয়ে করেন জ্যাক জিরোন নামে এক ব্যক্তিকে। চলে আসেন কুইন্সের হোয়াইটস্টোনে। সেলাই প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। অসুস্থ হওয়ার আগে পর্যন্ত উল বুনতেন। তার মধ্যে দিয়েই খুঁজে পেতেন জীবনীশক্তি।
যুদ্ধের পর সপরিবারে মার্কিন মুলুকে পাড়ি দেন রোজ। শুরু হয় জীবনের এক নতুন অধ্যায়। এর মধ্যে ১৯৬৮ সালে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় রোজের। বিয়ে করেন জ্যাক জিরোন নামে এক ব্যক্তিকে। চলে আসেন কুইন্সের হোয়াইটস্টোনে। সেলাই প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। অসুস্থ হওয়ার আগে পর্যন্ত উল বুনতেন। তার মধ্যে দিয়েই খুঁজে পেতেন জীবনীশক্তি।



